নবজাতক চুরির ঘটনায় গ্রেফতারকৃত নারী রিমান্ডে, তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০১৭, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় অবস্থিত নগর মাতৃসদন থেকে একটি নবজাতক চুরির ঘটনায় গ্রেফতারকৃত মাঠকর্মী তহুরা বেগম ওরফে লাজের (৩০) তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল রোববার বিকেলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার এই রিমান্ড মঞ্জুর হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর শাহমখদুম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মতিয়ার রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত তহুরাকে গত শুক্রবার আদালতে হাজির করে তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল। গতকাল আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
তিনি আরো জানান, মাঠকর্মী তহুরার বাড়ি নগরীর ডাশমারি এলাকায়। তার স্বামীর নাম হুমায়ুন কবীর। আদালতে তার রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর গতকাল সন্ধ্যায় তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নবজাতকটি উদ্ধারে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় অবস্থিত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) নামের একটি এনজিও পরিচালিত ওই নগর মাতৃসদন থেকে নবজাতকটি চুরি হয়। এ ঘটনার পর পিসটিসি থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে।
মাতৃসদনটির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তমচন্দ্র সাহা জানান, রাসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা শাহিদা বেগমকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। গতকাল দুপুরে কমিটির চারজন সদস্য মাতৃসদনে গিয়ে ঘটনার তদন্ত করেছেন। চুরি হওয়া নবজাতকের মা মুক্তি খাতুন (১৮) এখনও চিকিৎসাধীন থাকায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা তার সঙ্গেও কথা বলেছেন।
নিজের নবজাতককে হারানোর পর নগরীর চরশ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা নাসির উদ্দীনের স্ত্রী মুক্তি খাতুন জানিয়েছিলেন, তার গর্ভাবস্থায় ডাশমারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাঠকর্মী তহুরা বেগম দুইবার তার বাসায় গেছেন। একবার ৩০-৩৫ বছর বয়সী একজন অচেনা নারীকে সঙ্গে করে নিয়ে যান। তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তহুরা বলেছিলেন, ওই নারী বিদেশি এক প্রকল্পে কাজ করেন। বিদেশি প্রকল্প থেকে তিনি অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের আর্থিক সহায়তা দেন। তাকেও সহায়তা করবেন।
এরপর তার প্রসব বেদনা উঠলে গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তহুরা ও অজ্ঞাত ওই নারী তাকে নওদাপাড়া এলাকায় এই মাতৃসদনে ভর্তি করেন।  বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তার ছেলেসন্তান জন্ম নেয়। শুরু থেকেই তহুরা তার সঙ্গে ছিলেন। ওই অচেনা নারী তার চিকিৎসার খরচ বাবদ তিন হাজার টাকা দেন। এ ছাড়া বাচ্চার জন্য একটি তোয়ালে, কম্বল ও নতুন পোশাক কিনে দেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কৌশলে ওই নারী বাচ্চাটি নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় মুক্তি খাতুনের মা রোজিনা খাতুন বাদি হয়ে নগরীর শাহমখদুম থানায় একটি মামলা করেন।
শাহমখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, বাচ্চাটি অচেনা এক নারী চুরি করেছেন, যার সঙ্গে মাঠকর্মী তহুরা খাতুনের পরিচয় আছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বাচ্চাটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এর আগে ওই মাতৃসদনের একজন নার্সকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু তার কাছে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
এদিকে মামলার বাদি রোজিনা বেগম জানান, বিয়ের পর এবারই প্রথম সন্তানের মুখ দেখেছিলেন মুক্তি। সিজার করে তার সন্তানের জন্ম হয়। এতে অসুস্থ ছিলেন মুক্তি। আর জন্মের ৬ ঘন্টার মাথায় সন্তানকে হারিয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। সারাক্ষণ বিমর্ষ থাকছেন, কথা বলছেন কম। শনিবার তাকে মাতৃসদন থেকে ছেড়ে দেয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তাকে গতকাল পর্যন্ত ছুটি দেয়া হয়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ