নবীনের কম্পিত, গর্বিত পদভার

আপডেট: অক্টোবর ২৮, ২০১৯, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

ড. জান্নাত জাহান


ক্লাস শেষ করে বিশাল হলরুমটার দিকে এগিয়ে যেতেই হঠাৎ কানে ভেসে এলো মান্না দে’র গান। খালি গলায় কেউ গেয়ে চলেছেন ‘শান্ত নদীটি, পটে আঁকা ছবিটি…’। বাদ্যযন্ত্র বলতে হাতে হাতে তালি দিয়ে তাল দেওয়া। আহা কে গায় এমন গান, এমন মরমিয়া সুরে! এগিয়ে চললাম করিডোর ধরে। কণ্ঠ গেয়েই চলেছে- ‘শান্ত নদীটি, পটে আঁকা ছবিটি/একটু হাওয়া নাই/জল যে আয়না তাই/ঝিম ধরেছে ঝিম ধরেছে গাছেরও পাতা/পাল গুটিয়ে থমকে গেছে ছোট্ট তরীটি/আহা ছোট্ট তরীটি, শান্ত নদীটি…’।
হলরুমে উঁকি দিয়ে দেখতে চেষ্টা করলাম এই গানের শিল্পীকে। ও বাবা! এ যে দেখি আমাদের খালেক স্যার। চিরতরুণ, প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা আমাদের সবার প্রিয়মুখ নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অভিভাবক, উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল খালেক। এই গান তাহলে এতক্ষণ তিনিই গেয়ে চলছেন! এই আশি বছর বয়সেও গলায় কত দরদ! আর কত আনন্দ নিয়েই না তিনি গেয়ে চলেছেন!
এবার দৃষ্টি ফেরাই হলরুমে গানের শ্রোতাদের দিকে। গানের সুরে সুরে এতক্ষণ ধরে করতালির মাধ্যমে তাল মিলিয়ে যাচ্ছে একঝাঁক নতুন প্রাণ। এরা সবাই নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগে ফল-২০১৯ সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থী।
নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এ বছর ফল সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বরণ এবং সামার-২০১৯ ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেধা-পুরষ্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গিয়ে এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হই। ২৪ অক্টোবর ২০১৯ সকাল ১০টায় রাজশাহী নগরীর আলুপট্টিতে বঙ্গবন্ধু চত্বরে এই ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হয়েছিল অনুষ্ঠানটির।
এইদিন বিভিন্ন বিভাগের নতুন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এই ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা-উপাচার্য খালেক স্যার এবং ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অধ্যাপক রাশেদা খালেক ম্যাডাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহম্মদ আবদুল জলিল, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মদন মোহন দে, চিফ কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. পিএম সফিকুল ইসলাম এবং রেজিস্ট্রার রিয়াজ মোহাম্মদ। অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের কো-অর্ডিনেটর ড. নাসরিন লুবনার সঞ্চালনায় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, প্রক্টর, কো-অর্ডিনেটর, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।
আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অধ্যয়ন বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে সদ্য যোগ দিয়েছি। আমি এবং আমাদের বিভাগের কো-অর্ডিনেটর ও প্রভাষক আমার স্নেহাস্পদ আবুজার উপস্থিত ছিলাম আমাদের বিভাগের নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে।
খালেক স্যারের গান ততক্ষণে শেষ হয়েছে। কিন্তু তরুণ প্রাণের উচ্ছ্বাস যেন আর থামে না। সঙ্গীতসাগরে এ যেন এক মনোমুগ্ধকর অবগাহন। সবাই যেন আরও একটা গান শোনার অপেক্ষায় উদগ্রীব। কিন্তু ততক্ষণে উপাচার্য স্যার মঞ্চ থেকে নেমে চলে গেছেন নিজ আসনে। অনুষ্ঠানে যে আরো পর্ব রয়েছে। এর আগে অবশ্য উপাচার্য খালেক স্যার তাঁর বক্তব্যে বলে গেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয় খোলার গল্প।
হল ভর্তি নতুন মুখ। নতুন জীবনের স্বপ্ন আর সামনে এগিয়ে চলার শপথে মুগ্ধ দৃষ্টি নিয়ে বসে আছে একঝাঁক তরুণ-তরুণী। তারা সবাই নর্থ বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি পরিবারের নতুন সদস্য। পরিবারই বলব। কারণ এখানে পরস্পরের প্রতি ভালবাসা-স্নেহের অবারিত ধারা বহমান। এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষাদানই করে না। এখানে পারিবারিক মূল্যবোধ, সামাজিক মর্যাদা, সচেতনতা, নৈতিকতা আর নতুন জীবনের স্বপ্নের দুয়ার খুলে দেয়। জীবনকে বুঝতে শেখায়, জানতে শেখায়, আর জাগিয়ে তোলে নতুন উদ্যোগ নেয়ার প্রেরণা। ভালো কিছু করার দীক্ষা। উপাচার্য স্যার ও চেয়ারপারসন ম্যাডাম তাঁদের বক্তব্যে সেসব কথারই প্রতিধ্বনি করেন।
শিক্ষার্থী আতিক শাহরিয়ার, নাফিউল নিহাল, রুবাইয়াত, সুলতানুল আরেফিন, এজাজ আহম্মেদ প্রমুখ তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বিশ্ববিদ্যালয়। অত্যাধুনিক ল্যাব, টিএসসি, এসি ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস, ই-লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক এখানে অত্যন্ত চমৎকার। মনোমুগ্ধকর শিক্ষার পরিবেশ শিক্ষার্থীদের সহজেই ক্লাসের প্রতি আকৃষ্ট করে। স্বল্প খরচে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন-আকাক্সক্ষা পূরণে উত্তরবঙ্গ তথা সমগ্র দেশে উচ্চশিক্ষা প্রসারে ভূমিকা রাখছে নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ, মিডিয়া ও সাংবাদিকতা বিষয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে চার বছরের অনার্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে এই বিভাগে একে একে ১৬টি ব্যাচ ভর্তি হয়েছে। ফল সেমিস্টারে যারা ভর্তি হলো তারা ১৭তম ব্যাচ। এখানে মাস্টার্স প্রোগ্রাম খোলার সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জানুয়ারি সেমিস্টার থেকে মাস্টার্স প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।
সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন ও অনলাইন সাংবাদিকতার পাশাপাশি চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন, জনসংযোগ প্রভৃতি বিষয়ে এখানে হাতে-কলমে শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে পত্রিকা প্রকাশের অভিজ্ঞতা দিতে একটি অনুশীলন সংবাদপত্র প্রকাশের সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। অচিরেই এই পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে এই বিভাগ একটা নতুন দ্বারপ্রান্তে উপনীত হতে যাচ্ছে। আর অচিরেই এই বিশ্ববিদ্যালয় নগরীর চৌদ্দপাইসংলগ্ন এলাকায় নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়ার প্রস্তৃতি নিচ্ছে। যেখানে ক্যাম্পাসের একদিকে পদ্মার ছোঁয়া, অন্যদিকে নাগরিক জীবনের সুবিধা মিলবে।
প্রতি সেমিস্টারে নতুন নতুন শিক্ষার্থী দিয়ে ভরে উঠবে আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনা, নতুন এসব শিক্ষার্থীর কম্পিত কিন্তু গর্বিত পদভারে মুখর হয়ে উঠবে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এই প্রত্যাশায় আজ এখানেই ক্ষান্ত দিলাম।
লেখক: খণ্ডকালীন শিক্ষক। যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অধ্যয়ন বিভাগ। নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল -ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী

[email protected]