নরওয়েতে তালিবান প্রতিনিধি দল আফগানিস্তানে প্রতিনিধিত্বমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গঠিত হবে?

আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২২, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

আফগানিস্তানে মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ আফগানিস্তানের ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী না হলে পরিস্থিতি যে ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে তার ইঙ্গিত ইতোমধ্যেই প্রতিফলিত হচ্ছে। প্রতিটি দিন আফগানদের জন্য নতুন নতুন তিক্ত অভিজ্ঞতার অর্জিত হচ্ছে। তালিবানদের আফগান নাগরিকদের আর্শিবাদ এবং প্রত্যাশার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। সেখানে অতিদরিদ্র মানুষদের মধ্যে তাদের শিশু কন্যা বিক্রির হিড়িক চলছে। ক্ষুধার জ্বালা থেকে অন্য সন্তানদের রক্ষা করতে অনেক আফগানকে ওই নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। সেই ক্ষুধা থেকে বাঁচতেও কন্যা-শিশুদেরই বলী হতে হতে হচ্ছে। যা আফগানিস্তানে নারীর প্রতি চরম অবমাননা ও বৈষম্যের চিত্রও এটি।
সংবাদ পত্রের খবরÑ এক আফগান মা তার দুই কন্যা শিশুকে বিক্রি করেছেন। তাতেও আগ্রাসী ক্ষুধা মেটেনি। অপর সন্তানদের বাঁচাতে নিজের কিডনি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে। এমন পরিবার আফগানিস্তানে মোটেও কম নয়- বরং পরিস্থিতি যতই অবনতি হচ্ছে পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেও যৌন আগ্রাসন থেমে নেই। সক্ষম ব্যক্তিরা শিশু কন্যাদের কিনে নিচ্ছে। এ যেন এক বর্বর যুগের সূচনা আফগানিস্তানে।
গেল বছরের মধ্য আগস্টে আফগানিস্তানে তালিবান শারিয়া আইনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশটির ক্ষমতা দখল করে। কিন্তু ক্ষমতা দখলের পরপরই শারিয়া আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে গিয়ে দেশটির রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পূর্ণরূপে ভেঙ্গে পড়ে। একই সাথে দেশটির উৎপাদন ব্যবস্থাও ভেঙ্গে পড়ে। প্রচুর মানুষ বেকার হয়ে যায়। খুব অল্প সময়ের মধ্যে দেশটিতে দুর্ভিক্ষ অবস্থা দেখা দেয়। দেশটির অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠি তিব্র ক্ষুধার মুখে পড়ে। এমনকি তালিবান সরকার সরকারি কর্মচারিদের বেতন দিতেও ব্যর্থ হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত দেশটিকে বিশ্বের কোনো দেশই স্বীকৃতি দেয়নি। কেননা তালিবান তাদের পূর্ব স্বভাব থেকে একদম সরে আসে না। তারা নিজেরই ধর্মের নামে হত্যাযজ্ঞে নামে, মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ করে, সরকারের নারী কর্মচারিদের চাকরিচ্যুত করে- এমনই সব কট্টর ব্যবস্থা দেশটিতে প্রয়োগ করে। দেশটির এই ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্যে ২২ জানুয়ারি তালেবান সরকারের একটি প্রতিনিধি দল নরওয়ের রাজধানী অসলোতে পৌঁছেছে। ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত পশ্চিমা কূটনীতিকদের সঙ্গে তালেবানের সদস্যদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে মানবাধিকার সংকট ও সহায়তার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে নরওয়ে ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাসহ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ছিলেন।
পশ্চিমাদের কাছে এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হল- আফগানিস্তানে প্রতিনিধিত্বমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গঠন, জরুরিভিত্তিতে মানবিক ও আর্থিক সংকটের বিষয়গুলোর সমাধান করা। এছাড়াও নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সতর্কতা, মানবাধিকার বিশেষ করে নারী ও কন্যা শিশুদের শিক্ষা নিয়ে তালিবান শাসকদের অবস্থান নিশ্চিত করা।
নিশ্চিতভাবেই আফগান জনগণের জন্য এই বেঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই বৈঠকের সফলতার মধ্য দিয়েই আফগানিস্তানের চলমান সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তালিবান সরকারকে বেশি করে প্রতিশ্রুতিবান হওয়া আবশ্যিক হবে যে দেশটিতে প্রতিনিধিত্বমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গঠন করা। কিন্তু তালিবান কি সে পথে হাঁটবে? এবং হাঁটলেও সেটা কতক্ষণ স্থায়ী হবে- সেটা সময়ই বলে দিবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ