নর্থ বেঙ্গল চিনিকল কৃষকের সঙ্গে প্রতারণা, আখের ওজনে কারচুপির অভিযোগ

আপডেট: জানুয়ারি ২১, ২০২৪, ৮:৪০ অপরাহ্ণ


লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:


নাটোরের লালপুরে নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের আওতাভুক্ত আখ চাষিদের সঙ্গে আখ পরিমাপের ক্ষেত্রে কারচুপির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরবারহকৃত প্রতি আখের গাড়ি হতে এক থেকে ৪শ কেজি আখ চুরি করানো হচ্ছে। এমন প্রতরণার শিকার হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা। আখের ওজনে কারচুপির শিকার হয়ে চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আতাউর রহমান নামের এক আখচাষি।
তবে চিনিকল কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই আখচাষি অবৈধ পাওয়াক্রাশার মালিকের এজেন্ট হওয়ায় চিনিকলের সুনাম নষ্ট করতে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ ডিসেম্বর উপজেলার পানসিপাড়া-১ আখ কেন্দ্রে আখ সরবরাহ করেন আতাউর রহমান। ডিজিটাল স্কেলে যার ওজন ছিল ২ হাজার ৫৬৫ কেজি, কিন্তু সেখানে ওই আখ কেন্দ্রের স্কেলে ওজন দেখানো হয় ২ হাজার ৩০০ কেজি। আবার ২৭ ডিসেম্বর ২ হাজার ৭৯০ কেজি আখ সরবারহ করলে কারচুপি করে ২ হাজার ৪৮০ দেখানো হয়।এসব ঘটনায় ক্রয় করণীক মিজানুর রহমানকে জানালেও তিনি কোন কর্ণপাত করেন নি। গত ৩০ ডিসেম্বর ২ হাজার ৪৬০ কেজিতে ২ হাজার ২৬০ কেজি করে। এনিয়ে বাকবিতণ্ডা পর ২ হাজার ৩০০ কেজি করা হয়।

একই অভিযোগ সালামপুর আখ ক্রয় কেন্দ্রেও। সেখানে গত ২৬ ডিসেম্বর ১ হাজার ২৬৩ কেজি আখ সরবরাহ করিলে ক্রয় করণীক সাইদুর রহমান ১১শ কেজি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এবিষয়ে আখ চাষি আতাউর রহমান বলেন, এভাবে প্রতিটি আখ ক্রয় কেন্দ্রে প্রতিদিন শত শত কৃষকের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। ওজনের যাবতীয় স্বাক্ষী ও রশিদ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে।
উত্তরবঙ্গ চিনিকল আখচাষি সমিতির সভাপতি ইব্রাহিম খলিল বলেন, আমার কাছেও একাধিক আখচাষি ওজনের কারচুপির অভিযোগ জানিয়েছে। কমবেশি সব আখক্রয় কেন্দ্রে এমন ঘটনা ঘটছে। তবে পানসিপাড়াতে মাত্রাঅতিরিক্ত করছে। প্রতি গাড়িতে অনন্ত ১শ কেজি করে আখ কম দেখানো হচ্ছে। আখচাষিরা প্রতিবাদ করলে তারা আখ না নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এসব অব্যস্থাপনা দূর করে কৃষক যেন আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এজন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই।

এবিষয়ে মুঠোফোনে পানসিপাড়া আখ কেন্দ্রের আখক্রয় করণীক মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি কল কেটে দেন। পরে একাধিকার তার ফোন কল করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খবির উদ্দিন মোল্যা বলেন, অভিযোগ যাচাই করে তার সত্যতা পায় নি। তিনি একসঙ্গে দুই কেন্দ্রে আখ সরবারহ করতে পারেন না। খোঁজ নিয়ে জেনেছি অভিযোগ কারী প্রকৃত পক্ষে আখচাষি নয়। তিনি অবৈধপাওয়ার ক্রাশার মালিকদের এজেন্ট। চিনিকলের সুনাম নষ্ট করতেই এমন মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করেছেন।

Exit mobile version