নলডাঙ্গায় আদিবাসীদের উচ্ছেদে তদন্ত কমিটি || পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন

আপডেট: মে ৭, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ১৫টি পরিবারকে উচ্ছেদের ঘটনায় তিন সদ্যেস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ। গত শুক্রবার মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব সাইদুর রহমানকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এবং আইন মন্ত্রণালয়ের দুইজন উপসচিব।
এদিকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে নাটোর জেলা প্রশাসন। গতকাল শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মনিজ্জামান ভুঁইঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ড. চিত্তলেখা নাজনীন, নলডাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রেজা হাসানসহ ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন বলেন, উচ্ছেদ হওয়া আদিবাসীদের সরকারি খাস জায়গায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যেই তাদের নতুন ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হবে। এছাড়া সরকার পক্ষ হয়ে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। যতদিন না মামলার সমাধান হয় ততদিন অন্য জায়গায় তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলার পূর্ব মাধনগর গ্রামের ডিগ্রি কলেজের পিছনে ৩০ শতক খাস জমির উপর ১৯৪০ সাল থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ১৫টি পরিবার বসবাস করে আসছিল। পরে ওই ৩০ শতক খাস জমি আদিবাসীরা সরকারের কাছ থেকে পত্তন পায়। কিন্তু ১৯৬৮ সালে বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী ৩০ শতক খাস জমিসহ মোট ৫০ শতক জমি ওই গ্রামের বজলুর রশিদের বাবা ইমাজ উদ্দিনের সাথে বিনিময় করেন। পরে ওই জমির দখল বুঝে পেতে ইমাজ উদ্দিন বাদী হয়ে ১৯৯৬ সালে নাটোর সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর জমিটির ডিগ্রি পান ইমাজ উদ্দিনের ছেলে বজলুর রশিদ। আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আদিবাসীরা আপিল করলেও আপিলটি খারিজ হয়ে যায়।
এরপর গত ২ মে মঙ্গলবার নাটোর সহকারী জজ আদালতের রায়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির ১৫টি পরিবারকে পূর্ব নোটিশ না দিয়েই তাদের উচ্ছেদ করা হয়। এসময় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন আদালতের প্রতিনিধি নাজির সুনীল কুমারের নেতৃত্বে পুলিশ। তবে উচ্ছেদ অভিযান একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে হওয়ার কথা থাকলেও সে নিয়ম মানা হয় নি।