নাগরিক সেবা দিচ্ছে কমিউনিটি ট্রাফিক পুলিশ

আপডেট: জুন ২০, ২০১৭, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীর আরডিএ মার্কেটের সামনে কমিউনিটি ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা সোনার দেশ

নগরীতে রমজান মৌসুমে বিভিন্ন লোকালয় থেকে শহরের দিকে ছুটতে থাকে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী ও ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মানুষ। রমজানের শুরুতে শহরের দিকে যানবাহন ও পথচারীদের ভীড় কম থাকলে রমজানের মাঝে বাড়তে থাকে। বাজার এলাকায় নিরাপদ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিক সেবা দিতে দিতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি কমিউনিটি ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা অনন্য।
মহানগর ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রমকে গতিশীল ও সহযোগিতার জন্য যুক্ত হয়েছে কমিউনিটি ট্রাফিক পুলিশিং ব্যবস্থা। এরমধ্যে জেলা, উপজেলা ও শহরের নামিদামি মার্কেটের সামনে যানজট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ট্রাফিক কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরা। এসব সদস্যদের বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ও মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করে।
এবিষয়ে সাহেববাজার আরডিএ মার্কেটের সামনে দায়িত্বরত কমিউনিটি ট্রাফিক পুলিশের সদস্য মো. সেলিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটি ট্রাফিক পুলিশের কাজ করছি। ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনায় রাস্তায় যানজট নিয়ন্ত্রণ ও মুক্ত রাখতেও চেষ্টা করছি। আমরা দায়িত্বরত অবস্থায় হলুদ রংয়ের জামা, বাঁশি ও লাঠি নিয়ে রাস্তায় দায়িত্ব পালন করছি। বাজারে আসা মানুষকে হয়রানিমুক্ত ও যানজট নিয়ন্ত্রণে যান চলাচলকারীদের সচেতনা করে থাকি।
জানা যায়, ঈদে কমিউনিটি পুলিশ সেবার মাধ্যমে নাগরিকদের নিরাপদ চলাফেরা সুনিশ্চিত করার জন্য রাজশাহী মেট্রোপলিট্রন পুলিশের উদ্যোগে কমিউনিটি ট্রাফিক পুলিশিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান সাহেববাজার, আরডিএ মার্কেট, গণকপাড়া, সোনাদিঘি, সমবায় মাকের্ট ও জিরোপয়েন্টে এলাকায় যানজট মুক্ত রাখার জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সেবা প্রদান করছে কমিউনিটি ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। নগরীর সাহেববাজারসহ আশেপাশের বিভিন্ন মার্কেটের সামনের রাস্তায় ৬৫ জন্য কমিউনিটি ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা কাজ করছে।
পুলিশের তথ্য মতে, নগরীকে নিরাপদ, চলাফেরা ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য পুলিশের নাগরিক সেবার বিভিন্ন পরিকল্পনার মধ্যে কমিউনিটি ট্রাফিক পুলিশ একটি অন্যতম ব্যবস্থা। পুলিশিং সেবার মাধ্যমে স্বাধীন চেতনার অধিকারী জাতিকে একটি অপরাধ মুক্ত দেশ উপহার দেওয়াও সম্ভব। সাধারণ মানুষ যেন ভয় না করে পুলিশকে বন্ধু ভাবতে পারে, সেদিকে লক্ষ রেখে সেবা দিতে পুলিশ সদস্যদের দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এদিকে সাহেববাজার কমিউনিটি ট্রাফিক পুলিশ কমিটির সভাপতি শেখ শফিকুর রহমান চাঁদ বলেন, মহানগর ট্রাফিক পুলিশের তত্ত্বাবধানে কমিউনিটি ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা কাজ করছে। রাস্তায় যানজট মুক্ত রাখতে সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছে তারা। নিয়মিত ১২ জন ও রমজান উপলক্ষে অস্থায়ী ৪৪ জনসহ মোট ৬৫ জন কমিউনিটি ট্রাফিক পুলিশ সদস্য রাস্তায় আছে।
এরমধ্যে সাহেববাজারে ১২ জন, ভূবন মোহন পার্ক স্যান্ডেল পট্টিতে ৪ জন, কাপড় পট্টিতে ৬ জন, আরডিএ মার্কেটে ৩০ জন, সমবায় মার্কেটে ৪ জন, জিরোপয়েন্ট ৫ জন ও মনিচত্বরে ৪ জন কমিউনিটি সদস্য ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি পথচারি ও জনগণকে নাগরিক সেবা দিতে সহযোগিতা করছে।
এবিষয়ে মহানগর পুলিশের সিনিয়র সহকারি পুলিশ কমিশনার (সদর) ইফতে খায়ের আলম বলেন, পুলিশের সেবা নিতে কোনো টাকা লাগে না। পুলিশ নিজ দায়িত্বেই মানুষকে সেবা দেয়। রমজান আসলে নগরীর বাজারগুলোতে যানবাহন ও মানুষের সমাগম বেড়ে যায়। এজন্য ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য কমিউনিটি ট্রাফিক পুলিশিং ব্যবস্থা চাল করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশকে কমিউনিটির সদস্যরা যানজটমুক্ত রাস্তা ও জনগণকে নিরাপদ চলাচলে সহযোগিতা করছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ