নাচোলের ইউএনও-এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে লুটপাটের মামলা তদন্তের নির্দেশ

আপডেট: মে ২৪, ২০২২, ৯:২০ অপরাহ্ণ

ইউএনও শরীফ আহাম্মেদ ও এসিল্যান্ড মিথিলা দাস

সোনার দেশ ডেস্ক:


চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ আহম্মেদ ও সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড, ভূমি) মিথিলা দাসের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৪ মে) দুপুরে আমলী আদালত নাচোলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) বিচারক মো. হুমায়ুন কবীর এ আদেশ দেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৯ মে) দুপুরে নাচোল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী নাচোল উপজেলার কসবা গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুর রশিদ।

তদন্তের আদেশে বলা হয়েছে, বাদী উচ্ছেদকৃত বাড়ির জমি নিয়ে নাচোল সহকারী জজ আদালতে ২৯/২২ অ:প্র: ঘোষণামূলক ডিক্রির দাবিতে মামলা দায়ের করেন। মামলার কলামে বিবাদী জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও এসিল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত আছেন। মামলাটি বিচারাধীন।

নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১ ও ২ নম্বর অভিযুক্ত-দ্বয় সরকারি কর্মকর্তা সি আর পি সি ১৯৭ ধারা অনুসারে নিজেদের দায়িত্ব পালনকালে অথবা দায়িত্ব পালনে আসীন বলে বিবেচিত হওয়ার সময় কোনো অপরাধ সংগঠিত করেছেন বলে অভিযুক্ত হয়ে থাকেন, তখন সরকারের পূর্বানুমতি ব্যতীত কোনো আদালত সেই রূপ অপরাধ আমলে আনবেন না।

কিন্তু এ নালিশী দরখাস্ত অনুসারে ইউএনও এবং এসিল্যান্ডসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা ঘটনার দিন যে কাজ করেছেন বা তাদের দ্বারা যে কাজ হয়েছে, তা সরকারি কাজের অংশ কিনা সেটা প্রমাণ সাপেক্ষ।

আবার ৩-৫ ও নালিশী দরখাস্তে ২০/২২জন অজ্ঞাতনামা আসামির কথা বলা হয়েছে, যাদের নাম ও ঠিকানা স্পষ্ট না। ৩-৫ অজ্ঞাতনামা আসামিরা কেন ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন বা তাদের পরিচয় কি, কেন তাদের সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন হয়েছিল বা তারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কিনা বা সরকারি দায়িত্ব পালনে কেন ইউএনও-এসিল্যান্ড অভিযুক্ত-দ্বয় তাদের সাথে নিয়েছিলেন তা তদন্ত ছাড়া সঠিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব না।

সিভিল আদালতে নালিশী জমি নিয়ে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আদালতের কোনো আদেশ ছাড়াই কেন উচ্ছেদের প্রয়োজন হলো সেটাও আদালতের বোধগম্য নয়। এ অবস্থায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাই আদালত নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমানকে সরেজমিন তদন্ত করে আগামী ১৫ জুনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ১০ মে কসবা উজিরপুর হাটে সরকারি জমিতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে নাচোল উপজেলা প্রশাসন। এসময় ৩০-৪০টি দোকান ঘর উচ্ছেদ করা হয়। হাটের পাশেই দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে থাকা আরএস ১৬৬ নম্বর দাগে মামলার বাদী আব্দুর রশিদের বাড়িতেও অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। অথচ জায়গাটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

এমনকি আব্দুর রশিদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে বাড়ি থাকলেও ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের নির্দেশে দুটি পাকা ঘর ভেঙে ফেলা হয়। বাড়ি ভাঙার সময় ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে ২০-২২ জন লোক আব্দুর রশিদের বাড়িতে ঢোকেন।

তাই বিচার পেতে আব্দুর রশিদ গত বৃহস্পতিবার আদালতে নাচোল ইউএনও শরিফ আহম্মেদ ও এসিল্যান্ড মিথিলা দাস কসবা গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলী লতিবের ছেলে মো. দুরুল, মো. নুরুল ও একই এলাকার মৃত হেলালের ছেলে মো. জেন্টুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা (সি আর ৮৬/২২ নাচোল) করেন।

মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, তাদের বাড়িতে ঢোকা লোকজনের মধ্যে মামলার আসামি দুরুল, নুরুল ও জেন্টু বক্সে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। এমনকি ঘরের খাট, সোফাসেট, কাঁসার থালি লুট করে নিয়ে যায়। লুটপাট করা লোকজন ইউএনও ও এসিল্যান্ডের বাহিনী বলেও উল্লেখ করেন আব্দুর রশিদ।

তিনি বলেন, এ কাজে তাদের পুরোপুরি সমর্থন ছিল। দুটি ঘরে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ আরও অন্তত ৬৩ হাজার টাকার মালামাল লুটপাট করেছে। ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের নির্দেশনায় ও উপস্থিতিতে এমন কাজ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান (২) জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে আদালত মামলাটি গ্রহণ করেন। গত রোববার আদেশের দিন ধার্য থাকলেও বিজ্ঞ আদালত আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. হুমায়ুন কবীর মামলাটি তদন্তের জন্য নাচোল থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে ইউএনও শরীফ আহম্মেদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বাংলানিউজকে তিনি বলেন, এটি আদালতের বিচারাধীন বিষয়। এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করবো না। সরকারি স্বার্থ রক্ষায় জায়গাটি উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তবে, সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়াভুক্ত আমাদের ইজারা-কৃত হাট উচ্ছেদ করায় দেখলাম আদালতে আজেবাজে কথা বলে তদন্তের আদেশ নেওয়া হয়েছে।

এসিল্যান্ড মিথিলা দাসের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চাইলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে ইউএনওকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমার বক্তব্য এবং এসিল্যাণ্ডের বক্তব্য একই।

মামলার বাদি মো. আব্দুর রশিদ বলেন, আদালত আদেশ দিয়েছেন। মামলাটি যেন সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হয়। সঠিক ঘটনা সবার সামনে তুলে ধরার আহ্বানও করেন তিনি।

নাচোল থানার ওসি মিন্টু রহমান জানান, আদালতের আদেশ তিনি এখনও পাননি। তিনি বলেন, আদেশ পেলে ঘটনাস্থল তদন্ত করা হবে। তদন্তে যা উঠে আসবে সঠিকভাবে তা আদালতে দাখিল করবো।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ