নাচোলে আবারও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার পেলো সেমি পাকা টয়লেট

আপডেট: এপ্রিল ২৩, ২০২১, ৯:২৭ অপরাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:


চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের আদিবাসী অধ্যুষিত ধরইল গ্রামে আবারও ২৪টি উপকারভোগী পরিবারের বসতভিটায় বিনামূল্যে ১টি করে স্বাস্থ্য সম্মত ‘সেমি পাকা টয়লেট’ তৈরি করে হস্তান্তর করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চেতনা মানবিক উন্নয়ন সংস্থা। এতে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন।
জানা গেছে, শত বছরের পুরাতন ধরইল গ্রামের জমিন-কমিনসহ প্রায় ৩ যুগ আগে প্রতিষ্ঠিত দিঘীপাড়া ও লুইলাপাড়ায় ১৪০টি পরিবারের বসবাস। তন্মধ্যে ২৯টি পরিবার অর্থাৎ মোট পরিবারের ২১ ভাগ কাঁচা টয়লেট ছিল। বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে গত ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ২৬টি এবং আবারও উক্ত গ্রামের ৩টি ক্ষুদ্রপাড়ায় ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে যুক্ত হলো আরও ২৪টি সেমি পাকা টয়লেট। চলতি অর্থবছরের ২৪টি সেমি পাকা টয়লেট সম্পূর্ণ উন্নত রঙিন সবুজ টিন দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এ নিয়ে ধরইল গ্রামে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতায় এবং জেলার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান চেতনা মানবিক উন্নয়ন সংস্থা আদিবাসী পরিবারের বসতভিটায় ১টি করে স্বাস্থ্যসম্মত মোট ৫০টি সেমি পাকা টয়লেট নির্মাণ পরবর্তী নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সেমি পাকা ও কাঁচা মিলে মোট ৭৯টি পরিবার অর্থাৎ প্রায় ৫৬% জনগোষ্ঠী টয়লেট সুবিধাপ্রাপ্ত হলো। দু’টি ধাপে ২৪টি টয়লেট নির্মাণের লক্ষে নিয়ে চলতি সালের গত ১ মার্চ হতে কাজ শুরু করে ইতিমধ্যে তা সম্পন্ন হয়েছে। উক্ত কর্ম এলাকায় আরও ৬১টি টয়লেট নির্মাণ করা সম্ভব হলে শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিত হবে।
উল্লেখ্য, উপকারভোগী আদিবাসীরা তাদের বাপ-দাদার আমল থেকে বাড়ির আনাচে কানাচে, জমির আনাচে-কানাচে, খাড়ির পাড়ে যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করে জীবন অতিবাহিত করে আসছিল। শুষ্ক মৌসুমে মলমূত্র ত্যাগ করতে তাদের অসুবিধা না হলেও বর্ষা মৌসুমে চরম বিপাকে পড়ে বসবাসের চিলেকোটা ঘর সংলগ্ন কিংবা সরু এক চিলতে চলাচলের পথেই মলমূত্র ত্যাগ করতে হতো। এই কর্মএলাকা বরেন্দ্র অঞ্চলের অতি গহিনে হওয়ায় সরকারের কোন প্রতিনিধি কিংবা স্ব-হৃদ কোন রাজনৈতিক নেতা বা কোন দানশীল ব্যক্তির নজরে না আসায় ডিজিটাল বাংলাদেশে এখনও বেশকিছু পরিবার স্যানিটেশন কাভারেজ থেকে দুরে রয়েই গেছে। অত্র সংস্থা কর্তৃক বিগত ২০০৩ সালে উক্ত এলাকার খাড়ীর পাড়ে বরই ও আম গাছ রোপণ করে ২০০৭ সালে জাতীয় বৃক্ষ রোপণ প্রতিযোগিতায় ২য় পর্যায়ে জাতীয় পুরস্কার লাভ করে। সেই সময় উক্ত এলাকার আদিবাসীরা শ্রমিক হিসেবে প্রায় ২ বছর মেয়াদে সংস্থার কর্তা ব্যক্তিদের সাথে কাজ করে। সেই সূত্র ধরেই বরেন্দ্র অঞ্চলের পিছিয়েপড়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের অতিদরিদ্র কিংবা চরম দরিদ্রসীমার নিচে বসবাসরত প্রকৃত উপকারভোগীদের সামগ্রিক উন্নয়নে ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৫০টি পরিবারে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেমি পাকা টয়লেট নির্মাণ ও হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ