নাচোলে খাস পুকুরের দখল নিয়ে সাংসদ-চেয়ারম্যান দ্বন্দ্ব

আপডেট: জুন ২২, ২০১৭, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি


চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার আনুখাদিঘি গ্রামে একটি সরকারি খাস পুকুরের দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংসদ গোলাম মোস্তফার সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুুল কাদেরের বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। উপজেলা চেয়ারম্যানের অভিযোগ, সাংসদের নির্দেশেই গত রোববার আনুখাদিঘি গ্রামের মানুষকে নির্যাতন করেছে পুলিশ। এদিকে গ্রামবাসীর উপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছে ওই গ্রামের মানুষ। গত মঙ্গলবার আনুখাদিঘি গ্রামে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন এলাকার মানুষরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কসবা ইউনিয়নের আনুখাদিঘি গ্রামে সরকারি একটি খাস পুকুর স্থানীয় সাংসদ গোলাম মোস্তফার ভগ্নিপতি যুবলীগ নেতা সেরাজুল ইসলাম টাইগার, নাচোলের চন্দনা গ্রামের সাইদুর রহমানসহ কতিপয় ব্যক্তি ইজারা নিয়ে গত তিন বছর মাছ চাষ করে আসছিলেন। গত চৈত্র মাসে লিজের মেয়াদ শেষ হলে উপজেলা চেয়ারম্যান কাদের সমর্থিত চন্দনা মৎস্যজীবী সমিতিকে আগামী তিনবছরের জন্য পুকুরটিকে ইজারা দেয় উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি। এলাকাবাসির অভিযোগ চলতি মৌসুমে পুকুরটির ইজারা নিতে ব্যর্থ হয়ে যুবলীগ নেতা সেরাজুল ইসলাম টাইগার স্থানীয় সাংসদ গোলাম মোস্তফার প্রভাব খাটিয়ে চন্দনা সমিতিকে এখন পর্যন্ত ডিসিআর কাটতে দিচ্ছে না। এই নিয়ে আদালতে মামলাও করেছে তারা। এই অবস্থায় গত রোববার টাইগার ও সাইদুর পক্ষ পুকুরটিতে মাছ ধরতে গেলে উপজেলা চেয়ারম্যানের লোকজনের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এরপরই পুলিশ ওই গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীর ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জসহ ৩ জনকে আটক করে। এসময় নারীদেরও পুলিশ পিটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুুল কাদেরের অভিযোগ সাংসদ গোলাম মোস্তফার প্রভাবেই পুলিশ গ্রামবাসীকে নির্যাতনসহ তিনজনকে আটক করেছে। তিনি জানান, ঘটনার দিন খবর পেয়ে পুলিশের কাছে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে চাইলে পুলিশ তার সঙ্গেও অশোভন আচরণ করে।
অন্যদিকে উপজেলা চেয়ারম্যানের এই অভিযোগ অস্বীকার করে নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) ফাসির উদ্দিন জানান, আইনশৃঙ্খলা অবনতির কারনে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। এসময় কাউকে মারধর করা হয়নি। তবে পুলিশকে আক্রমন করতে চেষ্টার কারণে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গেও অশোভন আচরণের কথাও অস্বীকার করেন তিনি। এব্যাপারে সাংসদ মোস্তফার ভগ্নিপতি সেরাজুল ইসলাম টাইগার জানান, পুকুরটির ইজারা নিয়ে আদালতে মামলা করেছেন তারা। এখানে সাংসদ গোলাম মোস্তফার কোন সংশ্লিষ্টাতা নেই বলে দাবি করেন তিনি। এব্যাপারে সাংসদ গোলাম মোস্তফার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ