নাচোলে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবসে সিধুঁ-কানুকে স্মরণ

আপডেট: জুন ৩০, ২০২১, ৯:০১ অপরাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:


চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৬৬তম দিবস পালিত হয়েছে। এ দিবসটিকে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠিগণ সিধুঁ-কানুর সংগ্রামকে গভীরভাবে স্মরণ করে থাকে।
বুধবার (৩০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা আদিবাসী একাডেমি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বল্প পরিসরে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা আদিবাসী একাডেমির সভাপতি যতিন হেমরমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সমবায় অফিসার সুনিল কুমার, ইলা মিত্র সংসদের সভাপতি বিধান শিং, উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি হিংগু মুরমু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমীন হেমরম, রঞ্জনা বর্মন প্রমুখ। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির নেতারা বক্তব্যে বলেন, সাঁওতাল বিদ্রোহের পর ১৬৬ বছর অতিক্রম করলেও তাদের অধিকার বাস্তবায়ন হয়নি। এখনও তারা পদে পদে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। পরে সিধুঁ-কানুর উপর রচিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন প্রায় ৩০ হাজার সাঁওতাল কৃষক বীরভূমের ভগনাদিহি থেকে সমতল ভূমির উপর দিয়ে কলকাতা অভিমুখে এক গণপদযাত্রার মাধ্যমে বিদ্রোহ শুরু করেছিলেন তৎকালিন শাসকদের বিরুদ্ধে। সাঁওতালরা তীর-ধনুক ও দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করলেও ইংরেজ বাহিনীর হাতে ছিলো বন্দুক ও কামান। সিধু মুরমু, কানু মুরমু, চাঁন্দ-ভাইরোরা ও ফুলো মুরমু’র নেতৃত্বে সংঘটিত বিদ্রোহই আদিবাসীদের কাছে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস নামে পরিচিত। ইংরেজ শাসনামলে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এবং তাদের তাবেদার জমিদার, মহাজন, সুদখোর ও নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাঁওতাল কৃষকদের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন মুন্ডা, হো, মাঝিঁ, মালো, কামার, কুমার, তেলী, চামার, ডোম, গরীব হিন্দু ও মুসলমানসহ বঞ্চিত জনগন। যুদ্ধে সিদু-কানহু-চান্দ ও ভাইরর পর্যায়ক্রমে নিহত হলে ১৮৫৬ সালের নভেম্বর মাসে যুদ্ধ শেষ হয় ও বিদ্রোহের পরিসমাপ্তি ঘটে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ