নাচোলে স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামীর আত্মহত্যা

আপডেট: আগস্ট ২৪, ২০১৭, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

নাচোল প্রতিনিধি


চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে স্ত্রীকে হত্যার পর বিকারগ্রস্ত স্বামী মইদুল ইসলাম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার হাঁকরইল গ্রামের নিজ বাড়ির শয়ন কক্ষ থেকে স্ত্রী নাসিমা বেগমের (৩৫) মরদেহ এবং বাড়ির আঙ্গিনায় লাউ-কুমড়ো গাছের মাচানের বাঁশের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বামী মইদুল ইসলামের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করেছে নাচোল থানা পুলিশ। মইদুল ইসলাম উপজেলার নাচোল ইউনিয়নের হাঁকরইল গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। এবং নাসিমা বেগমের বাড়ি কুমিল্লা এলাকায় জানা গেলেও তার পিতা-মাতার নাম ও ঠিকানা জানা যায় নি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার ভোরে মইদুলের মেয়ে ময়ূরী ফজরের নামাজ পড়তে উঠার পর প্রাকৃতিক কাজে সাড়া দিতে গেলে বাড়ির আঙ্গিনায় সবজির মাচায় গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলতে দেখে তার পিতাকে। এসময় তার মাকে ডাকতে গেলে ঘরের মেঝেতে নেটজালের দড়ি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে চৌকির পায়ের সাথে বাঁধা অবস্থায় মাকে পড়ে থাকতে দেখে পাশের বাড়িতে তার দাদা-দাদিকে জানায়। আত্মহননকারীর পিতা সিরাজুল ইসলাম জানান, তার ছেলে মইদুল ইসলাম প্রায় ১০বছর আগে রাজমিস্ত্রির কাজে গিয়ে কুমিল্লায় বিয়ে করে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে নাসিমাকে ঘরে তোলে। তার কিছুদিন পর থেকে মইদুল ইসলামের সাথে বনিবনা না হওয়ায় পারিবারিকভাবে তালাক দিয়ে বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে ১ম স্ত্রী লাইলী বেগম। সে থেকে মইদুল ইসলাম ১ম স্ত্রীর পক্ষের ৩ মেয়ে মর্জিনা(১৯), ময়ূরী (১৪), সালমা (১১) এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পক্ষের ২ সন্তান সায়েমা (৭) ও ছেলে মাইজিদ হাসান মুন্নাকে (৫) নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।
এদিকে পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় এক মাস আগে থেকে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিল মইদুল ইসলাম এবং সে মাঝেমধ্যেই স্ত্রী নাসিমা বেগমকে ঘরে আটকিয়ে রাখতো ও মারধর করতো। নাচোল থানার ওসি তদন্ত মাহাতাব উদ্দিন জানান, মৃত নাসিমার নিকটতম কোনো অভিভাবক না পাওয়ায় পুলিশ বাদি হয়ে দায়েরকৃত মামলায় স্ত্রী নাসিমাকে হত্যার দায়ে মৃত স্বামী মইদুল ইসলামকে আসামি এবং মইদুল ইসলামের আত্মহননের ঘটনায় একটি ইউডি মামলা করেছে। স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অরেশ আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ও স্থানীয়দেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ