নাটকে কর্তৃত্ববাদী শাসকের চরিত্র দেখলো রাবি শিক্ষার্থীরা

আপডেট: ডিসেম্বর ২৩, ২০২৩, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ


রাবি প্রতিবেদক:


যুগে যুগে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অযোগ্য শাসকেরা ক্ষমতার অপব্যহার করে সাধারণ মানুষকে শোষন করে আসছে। তাদের ক্ষমতার অপব্যহারের এই চিত্র প্রতীকী ব্যঞ্জনায় ও ব্যঙ্গবিদ্রুপের মাধ্যমে তুলে ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মঞ্চস্থ হয়েছে নাটক সুনাগরিকের সন্ধানে। শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে অনুশীলন নাট্যদলের আয়োজনে এ নাটক মঞ্চায়িত হয়।

পাঁচটি দৃশ্যে বিভক্ত এ নাটকে ব্যঙ্গার্থকভাবে বিভিন্ন চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রারম্ভে নগরকর্তা, মন্ত্রী ও অশিক্ষিত পণ্ডিতের ক্ষমতার দাপট ও শোষণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন দৃশ্যে দেখা গেছে, নগরকর্তী এবারে তার জন্মদিন ভিন্নভাবে পালনের প্রয়াস করেন। সেজন্য তিনি একজন সুনাগরিক সংবর্ধনা দিতে চান। কর্তীর আবদার পূরণে মন্ত্রীকে সুনাগরিক খোঁজার আদেশ দেন কর্তা। তখন নগরপণ্ডিতকে দিয়ে ব্যক্তির সুনাগরিকত্ব যাচাইয়ের পরামর্শ দেন মন্ত্রী।

পণ্ডিত তখন কর্তাকে বলেন, সুনাগরিক হতে হলে ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তা, আত্মসংযম ও বিবেক থাকতে হবে। তখন মন্ত্রী ও পণ্ডিত নাগরিকদের ধরে ধরে এসব গুণের পরীক্ষা নিতে থাকেন। কিন্তু এসব গুণ সম্পর্কে কিছু না জেনেই তারা বিভিন্নভাবে নাগরিকদের অপদস্ত করেন এবং কর্তাকে খুশি করতে ভুল ব্যাখ্যা দেন। নাটকের মধ্যভাগের এসব দৃশ্যে মূলত কর্তাশ্রেণির চাটুকারিতা ও ক্ষমতার দাপটে জনগণকে শোষণ এবং দমিয়ে রাখার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

তবে শেষ অংশ দেখা গেছে, যখন একজন সুনাগরিকের অভাবে নগরকর্তীর জন্মদিন ম্লান হতে থাকে, তখন এক নাগরিকের সন্ধান মেলে। কিন্তু তিনি নয় দিন অভুক্ত থাকায় অচেতন ছিলেন। এতদিন অভুক্ত থাকতে পারার সক্ষমতা দেখে মন্ত্রী ও পণ্ডিত বুঝতে পারেন তিনি আত্মসংযমী। এখন বিবেক যাচাইয়ে তাকে জাগ্রত করা হয় এবং পণ্ডিত তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বিবেক ন্যায়ের পক্ষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার শক্তি যোগায়।’

কিন্তু একথা কর্ণপাত না করে তিনি জন্মদিনের কেক খেতে শুরু করেন। মন্ত্রী পাশ থেকে বলে ওঠেন, সে-তো শুনছে না, তাকে তো একথা বুঝাতে হবে। তখন সকলে মিলে ফের একথা পুনরুক্তি করেন। কিন্তু এবারও তিনি কর্ণপাত না করে কেক খেতে খেতে হাঁটা শুরু করেন। ফলে পুনরায় তারা একথা পুনরুক্তি করলে কর্তার মুখে কেক নিক্ষেপ করেন এই নাগরিক।

নাটকের রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন প্রখ্যাত নাট্যকার অধ্যাপক মলয় ভৌমিক। তিনি বলেন, সব দেশেই যুগে যুগে অযোগ্য কর্তৃত্ববাদীরা ক্ষমতায় গিয়ে সাধারণ মানুষকে শোষণ করে আসছে। এই কর্তৃত্ববাদী অযোগ্য শাসকদের চরিত্র এই নাটকে উন্মোচিত হয়েছে।

নাটকে অভিনয় করেছেন রাকিবুল আলম মিলন, লিমন বিশ্বাস, আরিফুল ইসলাম, তানজিমা মাহজাবীন, কুমার সরকার, সুব্রত কুমার হালদার, হৃদয় তালুকদার, ফারিয়া তুজ জাহান, অন্তর মহন্ত, মোশারফ হোসেন আবির এবং সাদিয়া আফরিন ছন্দা।

Exit mobile version