নাটোরের আলোচিত কলেজ শিক্ষক মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী মামুন কারাগারে

আপডেট: আগস্ট ১৫, ২০২২, ১০:১৩ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি:


নাটোরের কলেজ ছাত্রকে ভালবেসে বিয়ে করে ভাইরাল হওয়া শিক্ষক খায়রুন নাহারের মৃত্যুর ঘটনায় আটক তার স্বামী মামুন হোসেনের জামিন না-মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টায় কোর্ট পুলিশ মামুনকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোসলেম উদ্দিনের আদালতে হাজির করে।

এসময় মামুনের আইনজীবী এড. গোলাম সারোয়ার স্বপন জামিনের আবেদন জানালে শুনানী শেষে বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানান মামলার আইও এসআই এ জে মিন্টু। এর আগে এদিন দুপুরে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৫৪ ধারায় মামুনকে গ্রেফতার দেখিয়ে নাটোর সদর থানা থেকে কোর্ট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রোববার সকালে নাটোর শহরের বলাড়িপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে প্রফেসর খায়রুন নাহারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় সেখান থেকে আটক করা হয় তার অর্ধেক বয়সী স্বামী মামুন হোসেনকে। খায়রুন নাহার জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার এম হক ডিগ্রী কলেজের সহকারি অধ্যাপক ছিলেন। মামুন নাটোর এন এস সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

এ ঘটনায় খায়রুন নাহারের চাচাতো ভাই সাবির উদ্দিন একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। পুলিশ হেফাজতে দফায় দফায় মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং সুরৎহাল ও চিকিৎসকদের প্রাথমিক রিপোর্টে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় স্বামী মামুনকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয় বলে জানান নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।

অপরদিকে নাটোর সদর হাসপাতালের তিন সদস্যের মেডিকেল টিম শিক্ষিকা খায়রুনের মরদেহের ময়না তদন্ত করলেও কোন প্রতিবেদন দাখিল করেনি। ময়না তদন্ত সম্পন্নের পর ভিসেরা রিপোর্টের জন্য আলামত ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ বলা যাবে বলে জানান পুলিশ সুপার।

জানা যায়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর কাজি অফিসে গিয়ে দুজন গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের ছয় মাসেরও বেশি সময় পার হওয়ার পর সম্প্রতি বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। শিক্ষিকা মোছা. খাইরুন নাহার গুরুদাসপুরের খুবজিপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক।