নাটোরের দত্তপাড়ায় বিসিকের প্রাচীরে অবরুদ্ধ এক সাংবাদিক পরিবার

আপডেট: আগস্ট ২৭, ২০১৭, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


নাটোরের দত্তপাড়ায় বিসিকের নির্মাণকৃত প্রাচীর-সোনার দেশ

নাটোরের দত্তপাড়া বিসিক শিল্প এলাকায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অমান্য করে প্রাচীর তুলে একটি সাংবাদিক পরিবারকে অবরুদ্ধ করে ফেলার অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই পরিবারটি যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, আদালতের কারণ দর্শানোর নির্দেশ পাওয়ার পর তড়িঘড়ি করে শনিবার বন্ধের দিন থাকা সত্বেও বিসিক কর্তৃপক্ষ এই নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন।
ভুক্তভোগীরা ও আদালত সুত্রে জানা যায়, নাটোর সদর উপজেলার দত্তপাড়া বিসিক শিল্পনগরীর সবুজ বেস্টনি (গ্রীন জোন) রক্ষায় বিসিক কর্তৃপক্ষ প্রাচীর নির্মান শুরু করে। এতে দীর্ঘদিন ধরে বিসিকের পাশে বসবাস করা সাংবাদিক নাজমুল হাসানের পরিবারটি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সাংবাদিক নাজমুল হাসান জানান, বিসিক কর্তৃপক্ষ আমাদের বাড়ির সামনে কোন রাস্তা না দিয়ে প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এ অবস্থায় বিষয়টি জেলা প্রশাসক, বিসিক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ভাবে রাস্তা প্রদানের জন্য আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসক সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিসিক কর্তৃপক্ষকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য তিনফুট রাস্তা দেওয়ার নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশের পর বিসিক কর্তপক্ষ বাড়ির সামনে কয়েকফুট রাস্তা বাকী রেখে প্রাচীর নির্মাণ শেষ করেন।
পরে জেলা প্রশাসকের এ নির্দেশ অমান্য করে বিসিক কর্তপক্ষ বাড়ির সামনে ফাকা জায়গাটুকুতে প্রাচীর নির্মাণ করার পায়তারা চালাতে থাকলে গত বুধবার যমুনা টেলিভিশনের নাটোর প্রতিনিধি সাংবাদিক নাজমুল হাসান এবং তার মা হাফিজা বেগম বাদী হয়ে সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত শুনানী শেষে ৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য বিসিক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। আদালতের এই নির্দেশ গত বৃহস্পতিবার বিসিক কর্তৃপক্ষ বারাবর পৌঁছানো হয়। এরপর তড়িঘড়ি করে গতকাল শনিবার ছুটির দিনেও প্রাচীর নির্মাণ করেন বিসিক কর্তৃপক্ষ। ফলে পরিবারটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সাংবাদিক নাজমুল হাসান জানান, প্রাচীর নির্মানের কারণে তার বৃদ্ধ বাবা-মাসহ পরিবারের লোকজন অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
নাটোর জজ কোর্টের আইনজীবী আমজাদ হোসেন জানান, আদালত বিষয়টি অমলে নিয়ে ৫ দিনের মধ্য কারণ দর্শাতে বিসিককে নির্দেশ দেন। কিন্তু বিসিক কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে প্রাচীরের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায়। বর্তমানে ওই পরিবারটি সম্পূর্ন অবরুদ্ধ হয়ে আছে।
জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন বলেন, বাড়ি অবরুদ্ধ হয়েছে এমন খবরে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ওই পরিবারটির বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা রেখে প্রাচীর নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছি বিসিক কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু গতকাল শনিবার দুপুরে জানাতে পারলাম বিসিক কর্তৃপক্ষ যাতায়াতের রাস্তা না রেখেই প্রাচীর নির্মাণ সম্পন্ন করেছে। বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখ জনক। এ বিষয়ে বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক বজলুর রশিদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে নাটোর বিসিকের স্টেট অফিসার (ভুমি) দিলরুবা দিপ্তি সাংবাদিকদের জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শনিবার এই প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। তাদের কিছুই করার নেই।
নাটোর টিভি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি বাপ্পী লাহিড়ী এ ধরণের অমানবিক আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে াবরুদ্ধ পরিবারটিকে যাতায়াতের রাস্তা দেওয়ার দাবি জানান।