নাটোরের বড়াইগ্রামে মাঠ দিবস আখ রক্ষায় প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা : ড. ওমর আলী

আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২৪, ৯:৫২ অপরাহ্ণ


নাটোর প্রতিনিধি:নাটোরের বড়াইগ্রামে “আধুনিক প্রযুক্তিতে লাভজনক ভাবে সাথী ফসল চাষাবাদ শীর্ষক” মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই) ঈশ্বরদীর আয়োজনে এবং আখের সাথে সাথী ফসল হিসাবে ডাল, মসলা ও সবজি জাতীয় ফসল উৎপাদন প্রকল্পের অর্থঅনে বৃহস্প্রতিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার মহিষভাঙ্গার করিম মোড়ে এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় (বিএসআরআই) এর মূখ্য বৈজ্ঞানিক ও প্রকল্প পরিচালক ড. আবু তাহের সোহেল এর সভাপতিত্বে এ সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন, এর মহাপরিচালক ড. মো. ওমর আলী।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, বিএসআরআই পরিচালক (গবেষনা) ড. কুয়াশা মাহমুদ, নাটোর সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ ফরিদ হোসেন ভূইয়া, নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ, স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা প্রমূখ। এতে উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাটি এর পরিচালনা করেন, প্রধান বৈজ্ঞানিক মো: মোখলেছুর রহমান। এতে ৮০ জন কৃষক -কৃষাণী এতে অংশ গ্রহণ করেন।

মহাপরিচালক ড. মো. ওমর আলী বলেন, আখ আমাদের দেশের খাদ্য ও শিল্পে ব্যবহার্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থকরী ফসল। চিনি, গুড় ও চিবিয়ে খাওয়ার জন্য আখ ফসল চাষ করা হয়ে থাকে। দেশে খাদ্যাভাব যখন কম ছিল, তখন আখচাষ বেশ জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু দিন দিন খাদ্য শস্যসহ অন্যসব জিনিসের বাজারমূল্য অনেক বেড়ে গেছে। অথচ তুলনামূলকভাবে আখের মূল্য না বাড়ার কারণে কৃষক ভাইয়েরা আখ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। উচ্চ ফলনশীল ও স্বল্পসময়ে চাষ করা যায় এমন ফসল চাষ করে বেশি আয় করার ফলে ক্রমশ আখ চাষের জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে তুলনামূলকভাবে নিম্নমানের জমিতে আখের চাষ করা হচ্ছে। ফলে আখের ফলন দিনকে দিন কমেই যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে সার্বিকভাবে দেশের চিনি শিল্পের ওপরে।

তাই আখ ফসলকে এ বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনার। কারণ আখ ফসলি জমিতে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ মাস অবধি থাকে, তাই দীর্ঘ সময়টি আমাদের সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। আর সে কারণেই আমাদের আখের সঙ্গে যাতে করে, আরেকটি স্বল্পমেয়াদি ফসল সুষ্ঠুভাবে চাষ করতে পারি, সে ব্যবস্থাও জনপ্রিয় করতে হবে। আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে আমরা ডাল জাতীয় ফসলের মধ্যে মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর, মুগ ইত্যাদি। মসলা জাতীয় ফসলের মধ্যে পেঁয়াজ, রসুন ও তেল ফসলের মধ্যে তিল, তিসি, সরিষা, বাদাম,চাষ করতে পারে।

এছারা প্রাকৃতিক দুর্যোগে আখ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সাথী ফসল থেকে আংশিক ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায়। পেঁয়াজ ও রসুনের পাতায় তীব্র ঝাঁজ থাকায় সাথী ফসল হিসেবে আখচাষ করলে আখে পোকামাকড়ের উপদ্রব কম হয়। আখের সঙ্গে সাথী ফসল চাষ করলে জমিতে আগাছা কম হয় ফলে মূল ফসলের ফলন অনেকাংশে বেড়ে যায়। দোআঁশ, বেলে দোআঁশ ও এঁটেল দোআঁশ মাটি আখ চাষের জন্য খুবই ভালো। তাই এ প্রকল্পের আওতায় কৃষককে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ সুবিধার জন্য দেয়া হচ্ছে।