নাটোরের ভাঙ্গা মসজিদ নিয়ে কমিটির একাংশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে

আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২১, ৯:০৬ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি:


নাটোর শহরের পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী মসজিদুল মোকাররম (ভাঙ্গা মসজিদ) নিয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির একাংশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাদের অভিযোগ, মসজিদের সহ সভাপতি আলাউদ্দীন পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে দান-অনুদান বাধাগ্রস্ত করছেন। এতে সুনাম ক্ষুণেœর পাশাপাশি আল্লাহর ঘর মসজিদ নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বৃহষ্পতিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে নাটোর ইউনাইটেড প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, সম্প্রতি একটি স্থানীয় পত্রিকায় মসজিদ কমিটির বর্তমান সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে সভা আহ্বান না করা, আয়-ব্যায়ের হিসাব না দেখানো, স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের মনগড়া অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সর্বৈব অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ১০/১০/১৪ হতে ৩১/০৭/১৯ তারিখ পর্যন্ত মসজিদের মাসিক আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা আছে। এই ৬ বছরে মসজিদের আয় ৫০,১৯,৭৭০ টাকা এবং ব্যয় ৪৬, ৫৯,৫০০ টাকা। এছাড়া মসজিদ কমিটির কনভেনার মোস্তাকে আরও ৪,৪৯,৫০০ টাকা দেয়া হয়েছে। ফলে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫১,০৮,৬৫৪ টাকা। অর্থাৎ, অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৮৮,৮৮৪ টাকা। এই হিসাব বিধিমতো নিরিক্ষা করা আছে। মসজিদের বর্তমান সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন তার অনুসারীদের নিয়েই অনুপস্থিত থেকে পরিকল্পিত কোরাম সংকট দেখান। বিগত দিনগুলোতে যত উন্নয়ন ও ফান্ড কালেকশন হয়েছে, তা বর্তমান সভাপতি আব্দুর রহমান অনুর হাত দিয়েই হয়েছে কেননা দীর্ঘদিন তিনি সেক্রেটারি ছিলেন। এই মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনায় আমি দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। দীর্ঘ এই পথচলায় প্রশাসন, অনেক দাতা ও শুভাকাক্সক্ষীর সাথে তার সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এই সুসম্পর্কের বদৌলতে তিনি আগামী দিনগুলোতে মসজিদ পরিচালনায় আরও অগ্রগামী ভূমিকা পালন করতে পারবেন। তাই তাকে হেয় প্রতিপন্ন ও মসজিদে দান-অনুদান বন্ধ একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।
সভাপতি আব্দুর রহমান অনুর তার বক্তব্যে বলেন, সম্প্রতি মসজিদের বাথরুম নির্মাণের যে সাব কমিটি করা হয়েছে, তার কনভেনার আলাউদ্দীন নিজেই। অথচ তিনি কিছু জানেননা বলে অসত্য তথ্য দিয়েছেন। বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের নিকট থেকে তিনি ৪,৭৬,৬২০ টাকা অগ্রণী ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন। এছাড়া কাবিখা প্রকল্পের উত্তোলন করা ৪৫ হাজার টাকার তিনি কোন হিসাব কমিটিকে দেননি। এতে ধরা যেতে পারে তিনি ওই টাকা আতœাসাত করেছেন। মসজিদের বাথরুম নির্মাণে করা সাব কমিটির দায়িত্ব দেয়ার পর মসজিদের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কাজে নানা অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেন। এ বিষয়ে আলাউদ্দীনকে সতর্ক করার জন্য তার সাথে আলোচনা করার চেষ্টা করা হয়। অনেক চেষ্টার পর তাকে পাওয়া গেলে কাজের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তেজিত হন এবং কথার এক পর্যায়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলেন। এই কথার প্রতিবাদ করলে তিনি সেক্রেটারিকে লাঞ্ছিত করেন।
এ ঘটনায় নিজের দোষ ধামাচাপা দিতে সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নাটোর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। থানা অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করলে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এতে আলাউদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন যার নম্বর ৬/২১। এই মামলায় সাধারণ সম্পাদক ও তার তিন ছেলেকে আসামী করা হয়। বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন। আদালতে মসজিদ নিয়ে মামলা করে বাদী আলাউদ্দীন একটি অচলাবস্থা সৃষ্টির পায়তারা করছেন। এতে মসজিদের উন্নয়ণসহ সার্বিক কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং মসজিদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আলাউদ্দীন বলেন ২৮ বছর ধরে আব্দুর রহমান অনু সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন। এসময়ে তিনি কোন হিসেব দেননি। অভিযোগ দাখিলের পর নাটোর থানার ওসির মধ্যস্থতায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতি হয়েছেন আব্দুর রহমান অনু । তিনি কোরাম পূরণ ছাড়াই কমিটি মিটিং করেন । টয়লেট নির্মাণের জন্য যে টাকা আমাকে দেওয়া হয়েছিল তার পুংখানু পুখানু হিসেব দেওয়া হয়েছে।