নাটোরের মাহমুদাই কুষ্টিয়ায় আটক নারী জঙ্গি সুমাইয়া!

আপডেট: জুলাই ৫, ২০১৭, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

সুফি সান্টু, নাটোর


সুমাইয়া ওরফে মাহমুদা -সোনার দেশ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার জঙ্গি আস্তানা থেকে আটক নব্য জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড তালহার স্ত্রী হিসাবে পরিচিত সুমাইয়া ওরফে মাহমুদা নাটোরের মেধাবী ছাত্রী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সুমাইয়া ওরফে মাহমুদা খাতুন নাটোর সদর উপজেলার চক আমহাটি এলাকার দিনমুজুর মোস্তফা মিয়াজির মেয়ে। মাহমুদার জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত হওয়ার ঘটনায় হতবাক ও বিস্মিত তার পরিবারসহ এলাকাবাসী। সুমাইয়ার পরিবারের দাবি এটা কোনোভাবেই সম্ভব না।
রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সুমাইয়া ওরফে মাহমুদা খাতুন গত ২৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় সুমাইয়ার মা নাটোর সদর থানায় একটি জিডিও করেন। কিন্তু গত ৫ মাস ধরে নিখোঁজ থাকার পর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় আটকের খবর শুনে হতবাক তার পরিবার। তার জঙ্গি হয়ে ওঠা বিশ্বাস করতে পারছে না পরিবারের সদস্যরা। এলাকাবাসীও এখন মাহমুদাকে ভালো চোখে দেখছেন না।
২০১৪ সালে নাটোর শহরের রানী ভবানি সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে মাহমুদা। সে সময় মেধা তালিকায় রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের ১৪তম হিসেবে স্থান পায় সুমাইয়া ওরফে মাহমুদা। এরপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয় সে। ইসলামী ব্যাংকের উপবৃত্তি ও টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ বহন করতো। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সাত নম্বর এই মাহমুদা। তবে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে যদি মাহমুদা জড়িত থাকে তবে তার বিচার দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা। সেই সঙ্গে যাদের প্ররোচনায় সে এ কার্যক্রমে জড়িত তাদেরও বিচার চাই পরিবারটি।
প্রতিবেশী এক নারী জানান, মাহমুদা খুবই সাধারণ জীবনযাপন করতেন। কোন ছেলেদের সামনে যেতেন না। কথাও কম বলতেন এবং কারো সঙ্গে তেমন মেলামেশাও করতেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করা মেয়ে এমনভাবে চলাফেরা করায় এখন তাদের মনেও সন্দেহ দানা বাঁধে।
মাহমুদার ভাই হয়রত আলী জানান, চলতি বছরে ইসলামী ব্যাংকের উপবৃত্তির টাকা তুলে গত ২৬ জানুয়ারি ঢাকার উদ্দেশ্যে বের হয় বোন মাহমুদা। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তখন থেকেই পরিবারের সঙ্গে তার আর যোগাযোগ হয় নি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নস্থানে খোঁজ করে তার সন্ধান না পেয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি নাটোর সদর থানায় তার মা আম্বিয়া বেগম সাধারণ ডায়েরি করেন।
জানতে চাইলে মাহমুদার মা আম্বিয়া বেগম জানান, তাদের পরিবারে টেলিভিশন থাকলেও ডিসের সংযোগ না থাকায় মেয়ের খবর জানতো না পরিবার। পাশাপাশি জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড তালহার সঙ্গে মাহমুদার বিয়ের বিষয়টি তারা অবগত নন বলে জানান তিনি। তবে মাহমুদাকে বিপথে যারা নিয়ে গেছে তাদের বিচার চান তিনি।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুমাইয়াই নাটোরের মাহমুদা বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ