নাটোরের সরকারি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রেফতার, ১০ টন গম জব্দ

আপডেট: এপ্রিল ৫, ২০১৭, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


সরকারি গম দুর্নীতির অভিযোগে নাটোরের সরকারি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদাত হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় ১০ টন সরকারি গম জব্দ করা হয়। এর আগে নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফারজানা খানম গত সোমবার বিকেলে তাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করলে মঙ্গলবার সকালে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
নাটোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান জানান, সরকারি গুদাম থেকে সরকার নির্ধারিত মিল মালিকদের কাছে গম সরবরাহ করার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশ না মেনে নির্ধারিত সময়ের পর গতরাতে গুদাম থেকে ১০ টন গম অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অরুন কুমার প্রামানিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফারজানা খানমের নেতৃত্বে গুদামে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ১০ টন সরকারি গম জব্দ করা হয় এবং গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদাত হোসেনকে আটক করা হয়। এ ব্যাপারে সাদাত হোসেনকে অভিযুক্ত করে নাটোর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অরুন কুমার প্রামানিক বাদী হয়ে সোমবার রাতে নাটোর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। পরে তাকে মঙ্গলবার দুপুরে নাটোর সদর আদালতে প্রেরণ করা হয়। মামলার শুনানি শেষে সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক শামছুল আল-আমিন জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী অরুন কুমার প্রামানিক জানান, নাটোর সদর সরকারি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদাত হোসেন সরকারি খাদ্যগুদামের মেয়াদউত্তীর্ন ৩৫ টন গম গত ৩০ মার্চ নাটোর হক ফ্লায়ার্স মিলের নামে চালান দেখানো হয়। কিন্তু ওই নামে খাদ্য গুদামের কোন প্রকার সরবরাহ না করে গত ৩ এপ্রিল ১০ টন গম অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী সেখানে অভিযানে যান।
এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুল ইসলাম সরকারি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদাত হোসেনের আটকের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, অনেক সময় কাগজপত্র তৈরি করে নিয়ে খাদ্যগুদামে আসতে অফিস সময় শেষ হয়ে যায়। এছাড়া সরকারি ছুটির দিনও পড়ে যেতে পারে। সে কারণে মিল মালিকরা নির্ধারিত সময়ে গুদাম থেকে মাল তুলতে পারেন না।
নাটোরের (ভারপ্রাপ্ত) জেলা প্রশাসক মুনিরুজ্জামান ভূঞা বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি দায়িত্ব অবহেলা বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এর পিছনে অন্য কোন অসত উদ্দেশ্যের সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।