নাটোরে অপকর্মের প্রতিবাদ করায় মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে আগুন

আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০১৯, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


নাটোরের মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে আগুন সোনার দেশ

নাটোরে আগুনে পুড়ে গেছে মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নাসির উদ্দীনেরসহ তিনটি বাড়ি। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শহরের ঝাউতলা বস্তিতে এই অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি স্থানীয় সন্ত্রাসীদের অপকর্মের প্রতিবাদ করার জন্যই তারা আগুন দিয়েছে। এঘটনায় নাটোর সদর থানায় যুবলীগকর্মী নাজমুল শেখ বাপ্পীসহ ৯ জন নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৫-৬ জন অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পরিবারকে সরকারি ও বেসরকারি নগদ অর্থ, শুকনা খাবার, ট্রিন, কম্বল প্রদান করা হয়।
এদিকে ঘটনার পর নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহরিয়াজ, পুলিশ সুপার লিটন কুমার শাহা, নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জলি, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, স্থানীয় কাউন্সিলর ফরহাদ হোসেন, সুজিদ সরকারসহ অন্যরা পরিদর্শন করেন এবং তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থেকে সহযোগিতার ঘোষণা দেন ।
মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নাসির উদ্দিনের ছেলে আকরাম হোসেন বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে যুবলীগকর্মী নাজমুল শেখ বাপ্পী জামায়াত বিএনপির লোকজন নিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনা করে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুলকে জানানো হলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারার জন্য হুমকি দেয়। কিছুদিন পূর্বে হর্টিকালচারের ভিতরে সরকারি ইজারা দেয়া অন্যজনের পুকুরে জোর করে বাপ্পী ও তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে মাছ ছেড়ে দখলে নেয়। এর প্রতিবাদ করায় আরোও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তিনি আরো বলেন, এরই জেরে গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে শহরের ঝাউতলা বস্তিতে বাপ্পী ও তার অনুসারীরা পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে যুবলীগ কর্মী নাজমুল শেখ বাপ্পী বলেন, আমার সমর্থকরা এ ধরনের নোংরা নৃশংস কাজ করতেই পারে না। আমাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতে ও আমার অনুসারীদের বিপদে ফেলতে এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিষয়টি ভালভাবে তদন্ত করলে এর সত্যতা বেরিয়ে আসবে। এদিকে ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন, নাজমুল শেখ বাপ্পী ।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে শহরের ঝাউতলা বস্তিতে মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নাসির উদ্দিনের বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা সারা বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তে পুড়ে যায় বাড়ির সবকিছু। এসময় আগুন পাশের দুটি বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে সেই দুটি বাড়িও পুড়ে যায়। খবর পেয়ে নাটোর ফায়ার সার্ভিসের দু্িট ইউনিট ঘন্টা ব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে পরিবার তিনটি।
নাটোর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শহিদুল ইসলাম ও লিডার মখলেছুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর রাত ১টার দিকে দুটি ইউনিট গিয়ে ঘণ্টাব্যাপি চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছি। তবে পেট্রোল দিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে আমরা স্পষ্ট নই।
প্রাথমিক ভাবে তারা বৈদ্যুতিক শট-সার্কিটে আগুনের সূত্র উল্লেখ করে ঢাকায় রিপোর্ট পাঠিয়েছেন।
অপরদিকে নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মককর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ওই তিনটি পরিবারকে সরকারি ১১ বান্ডিল টিন, নগদ ৩৩ হাজার টাকা, শুকনা খাবার, চাল, ডাল, তেল লবণ, কম্বল প্রদান হয়েছে।
এছাড়াও বেসরকারি ভাবে নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জলি প্রতিটি পরিবারকে নগদ ৫ হাজার টাকা এবং ২নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সুজিদ সরকার ২ হাজার টাকা প্রদান করেন।
এবিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী জালাল উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নাসির উদ্দিনের ছেলে আকরাম হোসেন বাদী হয়ে স্থানীয় যুবলীগকর্মী নাজমুল শেখ বাপ্পীসহ ৯ জন নামীয় এবং অজ্ঞাত নামা আরো ৫-৬ জনকে অভিযুক্ত করে গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে একটি মামলা দায়ের করেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।