নাটোরে অবৈধভাবে আত্রাই নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০২১, ৯:০২ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি:


নাটোরে অবৈধভাবে আত্রাই নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে সিংড়া পৌরসভার কাউন্সিল আব্দুল আউয়াল রিংকুর বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০-এ বলা আছে, ‘কতিপয় ক্ষেত্রে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ:- ৪ নম্বর ধারা: বিপণনের উদ্দেশ্যে কোন উন্মুক্ত স্থান, চা বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ থেকে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না-(ক) পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ১নং আইন) এর অধীন প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসাবে ঘোষিত হলে; (খ) সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা হইলে, অথবা আবাসিক এলাকা হতে সর্বনিম্ন ১ (এক) কিলোমিটার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত সীমানার মধ্যে হলে : তবে শর্ত থাকে যে, সরকার জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত হইলে, সরকারি গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা, সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখপূর্বক, এই ধারায় উল্লিখিত কোন বিষয়ে উক্ত শর্ত শিথিল করতে পারবে। এসব আইনের কোন তোয়াক্কাই করছেন না প্রভাবশালী এবং জনপ্রতিনিধিরা । সম্প্রতি সময় এ প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন চিত্র।
নাটোরের সরকারি স্কুলের মাটির বিক্রির পর এবার অবৈধভাবে আত্রাই নদী থেকে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে আব্দুল আউয়াল রিংকু নাটোরে সিংড়া পৌরসভার এক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে । নদী থেকে মাটি তুলে স্থানীয় এক ব্যক্তির গর্ত ভরাট করার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। তবে তিনি দাবি করছেন, নদীর মাটি দিয়ে স্থানীয় গোরস্থান এবং মাদ্রাসার জায়গা সংস্কার করছেন।
জানা যায়, সিংড়া পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল রিংকু আত্রাই নদীর মহেশচন্দ্রপুর পয়েন্ট থেকে গত কয়েক দিন ধরে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটছে। পরে সে মাটিগুলো ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গা নিয়ে যায়। এতে করে নস্ট হচ্ছে পৌর এলাকার রাস্তা-ঘাট।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মহেশচন্দ্রপুর গ্রামের রজব আলী মোল্লার ২৩ শতক জায়গায় ভরাটের জন্য কাউন্সিলর রিংকু ১লাখ ৫৫হাজার টাকার বিনিময়ে নদীর মাটি তার কাছে বিক্রি করেছেন। গত কয়েক দিন ধরে ট্রাক্টরের মাধ্যমে মাটি নিয়ে গর্ত ভরাট করা হয়েছে।
তবে কাউন্সিলর আব্দুল আওয়াল রিংকু বলেন, গোরস্থান এবং মাদ্রাসার জায়গায় ভরাটের কাজ করা হচ্ছে। মাটির জন্য প্রায় ৮ লক্ষ টাকার মত লাগবে এজন্য কিছু মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।
এবিষয়ে সিংড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রকিবুল হাসান জানান, বিষয়টি ইউএনও স্যার অবগত করেছেন। আমাকে নদী থেকে মাটি উত্তোলন বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের মাটি বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠে কাউন্সিলর রিংকুর বিরুদ্ধে। এতে স্কুলের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ করে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
অপরাধ, বিচার ও দন্ড :- ১৫ : (১) এই আইনের ধারা ৪ এ বর্ণিত কতিপয় ক্ষেত্রে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিধানসহ অন্য কোন বিধান কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অমান্য করিলে বা এই আইন বা অন্য কোন বিধান লঙ্ঘন করিয়া অথবা বালু বা মাটি উত্তোলনের জন্য বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করলে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ব্যক্তিবর্গ (এক্সিকিউটিভ বডি) বা তাদের সহায়তাকারী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ অনূর্ধ্ব ২ বৎসর কারাদন্ড বা সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা হবে। এই অভিযান অব্যাহত আছে।