নাটোরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাড়িঘর নির্মাণ, থানায় অভিযোগ

আপডেট: জুলাই ৩০, ২০১৭, ১২:০৩ অপরাহ্ণ

নাটোর অফিস


নাটোরের নলডাঙ্গায় আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদেশ অমান্য করে রহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির ২২ শতক জমি জবর-দখল করে প্রতিপক্ষ জিয়াদ আলী পাকা বাড়িঘর নির্মাণ করায় থানায় অভিযোগ হয়েছে।
উপজেলা পূর্ব মাধনগর গ্রামের মৃত আ. রহমানের ছেলে রহিদুল ইসলামের পৈতিক সূত্রে পাওয়া জমি জবর-দখল করে প্রতিপক্ষ জেকের আলীর ছেলে জিয়াদ আলী মোল্লা ও তার চার ভাই-বোন মিলে ইটের পাকা বাড়িঘর নির্মাণ কাজ শুরু করলে আদালতে অভিযোগ করলে বুধবার নাটোর সহকারী জজ আদালতে এ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (স্থিতিঅবস্থা) আদেশ জারি করে। গত বৃহস্পতিবার আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদেশ জারির নোটিশ জবর দখলকারী জিয়াদ আলীর বাড়িতে পৌঁছালোও এ নিষেধাজ্ঞা আদেশ অমান্য করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। এরপর গত শুক্রবার রহিদুল ইসলাম নলডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ গিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে উভয়পক্ষকে স্থিতিঅবস্থা থাকার জন্য বলে আসে। পরে পুলিশ চলে গেলে পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করার অভিযোগ উঠেছে।
নলডাঙ্গা থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পূর্ব মাধনগর গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে রহিদুল ইসলামের পৈতিক সূত্রে পাওয়া ৩৪ শতক জমি নিয়ে একই গ্রামের প্রতিপক্ষ জেকের আলীর ছেলে জিয়াদ আলী মোল্লা ও তার চার ভাই বোনের সাথে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। এ ঘটনায় ২০১৫ সালে রহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে নাটোর সিনিয়ার সহকারী জজ আদলতে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন। এ অবস্থায় আদালতে বাটোয়ারা মামলা তোয়াক্কা না প্রতিপক্ষ জেকের আলীর ছেলে জিয়াদ আলী মোল্লা ও তার চার ভাই বোন মিলে ১৬৮ নম্বর পূর্ব মাধনগর মৌর্জায় আরএস খতিয়ানে ১৮৯৯ দাগের ৩৪ শতকের মধ্যে ২২ শতক জমি জবর দখল করে ইটের পাকা বাড়িঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এ বিষয়ে আদালতে বাদী অভিযোগ করলে গত বুধবার নাটোর সহকারী জজ আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদেশ জারি করে। বৃহস্পতিবার আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদেশ জারির নোর্টিশ জবর দখলকারী জিয়াদ আলীর বাড়িতে পৌঁছালোও এ নিষেধাজ্ঞা আদেশ অমান্য করলে গত শুক্রবার রহিদুল ইসলাম নলডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ গিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে।পরে পুলিশ চলে গেলে পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করার অভিযোগ উঠেছে।
মামলার বাদী রহিদুল ইসলাম জানান, এই ৩৪ শতক জমি আমার বাবা প্রতিপক্ষ জিয়াদ আলীর বাবা জেকের আলীর কাছে বর্গা দিয়েছিল। সেই থেকে এই ৩৪ শতক জমির মধ্যে ২২ শতক জমি দখল করে নিজেদের বলে দাবি করে। প্রতিপক্ষ জিয়াদ আলী মোল্লা জানান, আমি ১৯৬৯ সালে এই ২২ শতক জমি কিনে নেওয়ার পর আরএস খতিয়ানে আমার নামে রের্কড হয়। আদালতের নিষেধাজ্ঞা আদেশের একটি নোটিশ এসেছিল, আমরা গ্রহণ করি নি।
এ ব্যাপারে নলডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তফা কামাল জানান, অভিযোগ পেয়ে আদলতের নিষেধাজ্ঞা (স্থিতিঅবস্থা) আদেশ কপি দেখে পুলিশ পাঠিয়ে উভয়পক্ষকে স্থিতিঅবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।