নাটোরে ইউএনওর গাড়ী চাপায় সাংবাদিক নিহতের ঘটনায় প্রেসক্লাবের তিন দিনের শোক

আপডেট: মে ১০, ২০২২, ১০:১১ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি:


নাটোরের সিংড়ায় নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি চাপায় সাংবাদিক সোহেল আহমেদ (৩৩) নিহতের ঘটনায় তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে সিংড়া প্রেসক্লাব। এছাড়াও এই ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার রাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রহিমা খাতুনকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-বিআরটি এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুজ্জামান এবং সিংড়ার ইউএনও সামিরুল ইসলাম। কমিটিকে আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি।

এদিকে সাংবাদিক সোহেল আহমেদ’র মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে সিংড়া প্রেসক্লাব। সিংড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. এমরান আলী রানা সাক্ষরিত শোক বার্তায় বলা হয়েছে, সিংড়া প্রেসক্লাবের সকল সদস্যের কালো ব্যাচ পরিধান ও বুধবার বাদ আছর বকুল হায়দার জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সোমবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সিংড়া উপজেলার নিংগইন তেলপাম্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সোহেল আহমেদ সিংড়া পৌর শহরের বালুয়া বাসুয়া মহল্লার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে। তিনি আগপাড়া শেরকোল বন্দর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগে কম্পিটারের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক দুরন্ত সংবাদের সিংড়া উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, নাটোরের সিংড়া গোল-ই আফরোজ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মানসী দত্ত মৌমিতা নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুখময় সরকারের সহধর্মিণী। গত সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ইউএনও’র স্ত্রী কর্মস্থলে সিংড়া যায়।

কিন্তু সিংড়া পৌঁছার আগে নিংগইন তেল পাম্প এলাকায় ইউএনও’র সরকারি গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে পিষ্ট হয় মোটরসাইকেল আরোহী সাংবাদিক সোহেল আহমেদ। স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রাজশাহী নিয়ে গেলে দুপুর ১টার দিকে মারা যান। পরে ঘটনাস্থলে আসেন নলডাঙ্গার ইউএনও সুখময় সরকার।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আফজাল হোসেন, মো. সুলায়মান ও মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ইউএনও’র গাড়ি দ্রুত গতিতে সিংড়ার দিকে আসছিলেন। নিংগইন পৌঁছলে মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে ইউএনওর গাড়ীর চাকায় পিষ্ট হয় সাংবাদিক সোহেল রানা। ওই সময় ইউএনও’র সরকারি গাড়ি থেকে একটি মহিলা ও চালকসহ ৩জন ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে গাড়ি দুটি উদ্ধার করে।

এব্যাপারে নিহত সোহেল আহমেদ’র স্ত্রী জনি বেগম জানান, তিনি ২০২১ সালে সিংড়া কৃষি ডিপ্লোমা থেকে কম্পিউচার বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এর আগে দমদমা স্কুল ও কলেজ থেকে ২০০৯ সালে এসএসসি (মানবিক বিভাগ) পাশ করেন। কলেছে ভর্তি হওয়ার পর মাঝে তার দুই বছর ড্রপ আউট হয়। তার এতিম দুই শিশু সন্তান এবং বৃদ্ধ শাশুড়িসহ পাঁচজনের সংসারের খরচ চালাতে তিনি ছারা আর কো বিকল্প নেই। তাই সরকারের কাছে তার কর্মসংস্থানের আকুল আবেদন ।

ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি রেজওয়ানুল ইসলাম জানান, এঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। তবে মামলার সব কিছু প্রস্তৃত রয়েছে। নিহতের বড় ভাই আরোয়ারের সাথে তাদের কথা হয়েছে, তারা অপেক্ষায় আছে জেলা প্রশাসক তাদের সাথে দেখা করার পরই মামলা করবেন।

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুখময় সরকার বলেন, নলডাঙ্গা ছোট উপজেলা। এখানে পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছিল না, তাই চালককে পাঠিয়েছিলাম সিংড়া থেকে পেট্রোল আনতে।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম সামিরুল বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয় ঢাকায় আছেন, নাটোরে আসলে নিহত সাংবাদিকের স্বজনদের সাথে সাক্ষাত করবেন। নিহতের পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে। কেন সেখানে সরকারি গাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? চালক কে ছিল? সে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিল কি না? তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ