নাটোরে ইউপি চেয়ারম্যান ও ছেলের বিরুদ্ধে কৃষককে মারধরের অভিযোগ

আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০২২, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি :


নাটোর সদর উপজেলার বড় হরিশপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওসমান গনি এবং তার ছেলে যুব-লীগ নেতা শরিফুল ইসলাম (কালিয়ার) বিরুদ্ধে ইদ্রিস আলী নামে এক কৃষককে মারপিট ও বিরোধপূর্ণ জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার ঋষি নওগাঁ গ্রাম সংলগ্ন কৃষি জমিতে এই ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ইদ্রিস আলীকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। আহত ইদ্রিস আলী ওই গ্রামের মৃত মনতাজ আলীর ছেলে।

অভিযুক্ত কালিয়া বড় হরিশপুর ইউনিয়ন যুব-লীগের সভাপতি ও নাটোর জেলা পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক।
নাটোর থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঋষি নওগাঁ এলাকায় কৃষক ইদ্রিস আলী ৫৬ শতাংশ চাষাবাদ করে আসছিল। এই জমি নিয়ে ইদ্রিস আ আলীর সাথে তাঁর চাচা ফজর আলী, চাচাতো ভাই মিজান এবং প্রতিবেশি ইসমাইলের সাথে বিবাদ চলে আসছিল । জমি সংক্রান্ত এই বিবাদ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালত কৃষক ইদ্রিস আলীদের পক্ষে রায় দেয়। এই জমি নিয়ে ইদ্রিস আলীর সাথে তাঁর চাচা ফজর আলী, চাচাতো ভাই মিজান এবং প্রতিবেশি ইসমাইলের বিবাদ চলে আসছিল । জমি সংক্রান্ত এই বিবাদ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালত কৃষক ইদ্রিস আলীদের পক্ষে রায় দেয়।

অভিযোগে বলা হয়, বড় হরিশপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওসমান গনি, ফজল আলী, মিজান, ইসমাইল বিভিন্ন সময় ইদ্রিস আলীকে তার জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালায়। এরই ধারাবারিকতায় বুধবার চেয়ারম্যান, তার ছেলে সহ তার সহযোগীরা জমিতে গিয়ে ইদ্রিস আলীকে কাজ বন্ধ করে দিতে বলে। ইদ্রিস আলী এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ইদ্রিসের উপর হামলা চালায়। এতে সে গুরুত্বর জখম হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ইদ্রিস আলীকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

কৃষক ইদ্রিস আলী জানান, আমি আমার নিজের জমিতে কাজ করছিলাম। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান ওসমান গনি ও তাঁর ছেলে কলিয়াসহ আরো কয়েকজন এসে কাজ করতে নিষেধ করে। নিষেধ না মানায় চেয়ারম্যান এবং তাঁর ছেলের নেতৃত্বে অন্যরা আমাকে মারপিট করে। পরে পুলিশ গিয়ে আমাকে রক্ষা করে ।

বড় হরিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওসমান গণি জানান, ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু ‘ইদ্রিসকে আমি ধরিনি, তাকে মারধরও করা হয়নি। ইদ্রিসের চাচা এবং চাচাতো ভাইয়ের জমি সে (ইদ্রিস আলী) চাষ করায় তাকে নিষেধ করা হয়েছে।
নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছিম আহমেদ জানান, চেয়ারম্যান এবং তাঁর ছেলে সাংঘাতিক অন্যায় করেছে। এটা মানা যায় না। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযোগ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ