নাটোরে কীটনাশকে নষ্ট হলো এক কৃষকের ফসল

আপডেট: জানুয়ারি ৭, ২০২১, ১০:১৩ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি :


নাটোরে ফসলি জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করে এক কৃষকের লক্ষাধিক টাকার ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার হলুদঘর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক হেলাল জানান, নলডাঙ্গা বাজারের বিজয় এন্টারপ্রাইজের মালিক বজলুর রশিদের কীটনাশক দোকান থেকে কীটনাশক কিনে তার প্রায় ২৮ কাঠা জমিতে আলু ও পেঁয়াজের চারায় প্রয়োগ করেন। ছত্রাকনাশক ওই কীটনাশক প্রয়োগ করার তিনদিন পরই ফসল হলদে বর্ণ ধারণ করে পচে নষ্ট হতে শুরু করে।
জানা জায়, তিনি বজলুর রশিদের কীটনাশক দোকান থেকে তার পরামর্শে ব্যাবিলন এগ্রিসাইন লিমিটেড কোম্পানির ৭ ধরনের কীটনাশক জমিতে প্রয়োগ করতে বলেন। দোকানদারের পরামর্শে কৃষক হেলাল জমিতে প্রয়োগ করেন। ওই কীটনাশক প্রয়োগের তিনদিন পর এসে দেখেন ল্যালা পেঁয়াজ, পেঁয়াজের চারা ও আলু হলুদ বর্ণ ধারণ করে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
কৃষক হেলাল আরও জানান, তিনি ধার দেনা করে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ করে ল্যালা পেঁয়াজ, পেঁয়াজের চারা ও আলু লাগিয়েছিলেন। কিন্ত বজলুর দোকান থেকে ভেজাল কীটনাশক কিনে জমিতে প্রয়োগ করেই তার সর্বনাশ হয়েছে। তিনি এসবের ক্ষতিপুরণ দাবি করেন। অসিফ নামে অপর এক কৃষক জানান, তিনিও বজলুর দোকান থেকে কীটনাশক কিনে আলু, পেঁয়াজে প্রয়োগ করে একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
কীটনাশক দোকান মালিক বজলু বলেন, তিনি ব্যাবিলন এগ্রিসাইন লিমিটেড কোম্পানির ডিলার হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার কাছ থেকে কৃষক হেলাল এই কোম্পানি কীটনাশক কিনে নিয়ে যায়। তার মত প্রতিদিন বহু কৃষক একই কীটনাশক কিনে নিয়ে জমিতে প্রয়োগ করে ভালো ফলাফল পাচ্ছে। কীটনাশকের কারণে হেলালের ফসলের ক্ষতি হয়নি দাবি করে বলেন, তিনিও এর সঠিক তদন্ত ও গুনাগুন পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চান। তবে কীটনাশকের কারণে হেলালের ফসলের ক্ষতি হলে তিনি ক্ষতিপূরণ দিবেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার ফৌজিয়া ফেরদৌস জানান, অভিযোগ শুনে আমরা সরেজমিন ফসলের ক্ষেত পরিদর্শন করেছি এবং প্রয়োগকৃত কীটনাশকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল আসলে জানা যাবে কি কারণে ফসলের এ ক্ষতি হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের কৃষি উপ-সহকারীর মতামত ছাড়া কীটনাশক প্রয়োগ না করার পরামর্শ দেন তিনি।