নাটোরে ‘খয়রা মেছো পেঁচা’ উদ্ধার, সুস্থ হলেই প্রকৃতিতে অবমুক্ত

আপডেট: অক্টোবর ৪, ২০২২, ২:৫১ অপরাহ্ণ


নাটোর প্রতিনিধি :


অতি পরিচিত পাখি। নিশাচর বলে সুলভ দর্শন হলেও নজরে পড়ে কম। গ্রামাঞ্চলে এখনো কিছু কিছু নজরে পড়ে। নিশাচর পাখি হলেও এরা ঝড়-বাদলের দিনে মাছ শিকারে বের হয়। তবে বেশির ভাগই রাতের বেলা জলাশয়ের আশপাশে ঘুরঘুর করে কিংবা জলার ওপরে হেলে পড়া গাছের ডালে বসে শিকারের প্রতিক্ষা করে।

মাঝে মাঝেই গম্ভীর স্বরে ডেকে ওঠে ‘ভূত-ভূত-ভূতম’। সাঁঝের বেলা একাকী পথ চলার সময় এদের এমন ডাক শুনলে পিলে চমকে ওঠে ভয়ে। দেখতে ভয়ানক হলেও প্রকৃতপক্ষে এরা অত্যন্ত নিরীহ পাখি, লাজুকও বটে।

দিনের বেলায় বড় গাছের পাতার আড়ালে কিংবা গাছের কোটরে লুকিয়ে থাকে। গেছো ইুঁদর-সাপ শিকার করে এরা মানুষের যথেষ্ট উপকার করে। মানুষও এদের খুব একটা ক্ষতি করে না, তবুও এ পাখির সংখ্যা ক্রমেই হরাস পাচ্ছে। বড় পুরানো গাছের অভাবেই মূলত ওদের প্রজননে বিঘ্ন ঘটছে।এ দেশেরই পাখি। এর নাম “খয়রা মেছো পেঁচা” বা Brown fish owl এরা হুতোম পেঁচা নামেও পরিচিত। গত সোমবার নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে এ খয়রা মেছো পেঁচা উদ্ধার হয়।

বিবিসিএফ এর কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ফজলে রাব্বী জানান, গত সোমবারের দিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এদিন বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন বিবিসিএফ এর সদস্য সংগঠন সবুজ বাংলার উদ্যোগে নাটোরের নলডাঙ্গার মাধনগর থেকে অসুস্থ অবস্থায় পেঁচাটিকে উদ্ধার করে সংগঠনের সদস্যরা।

পরে নলডাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকতা ডা. মো. আহসান হাবিব, উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. রকিবুল হাসান সুজন। সংগঠনের সদস্য কামাল হোসেন, বিল্পব কুমার, শুভ, রাজ, হৃদয়, আলামিন, শাওন, নাহিদসহ অন্যরা। পেঁচাটিকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। সুস্থ হলেই প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণী ব্যবস্থপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণের কর্মকর্তা আহম্মদ নিয়ামুর রহমান জানান, এ পেচাঁটি লম্বায় ৫২-৫৫ সেন্টিমিটার। মাথা, ঘাড়, গলায় কালোর ওপর সাদা ছোপ।

মাথার দু’পাশের পালক খানিকটা লম্বা হওয়ায় তা কানের মতো মনে হয়। পিঠ বাদামি-কালো টান। বুক, পেটে রয়েছে হালকা বাদামি-কালো লম্বা টানের ছিট। চোখ গোলাকার বড়সড়ো, জ্বলজ্বল করে। পা ফিকে হলদে। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম।

প্রধান খাবার: মাছ, এ ছাড়াও ব্যাঙ, ইুঁদর, ছোট সাপ শিকার করে। প্রজনন সময় জানুয়রি থেকে এপ্রিল। বাসা বাঁধে গাছের প্রাকৃতিক খোড়লে অথবা পুরনো দালানের ফোঁকরে। ডিম পাড়ে ১-২টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে