নাটোরে চামড়ার দাম কম, সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

আপডেট: জুলাই ২৪, ২০২১, ২:২২ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি:


গত বছরের মতো এবারও চামড়া বিক্রি করে লোকসানে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। দেশের চামড়ার সবচেয়ে বড় বাজার নাটোরে খাসির চামড়া বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা পিহ। আর গরু ৬শো থেকে ৮শো টাকার মধ্যে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটকে দোষারোপ করলেও ব্যবসায়ীরা বলছে ভিন্ন কথা। ট্যানারি মালিকদের কাছে ৬০ থেকে ৬৫ কোটি টাকা বকেয়া পাওনা পরিশোধসহ এবার নগদ টাকায় চামড়া কেনার দাবি করছেন আড়তমালিকরা। এছাড়া চামড়া পাচার রোধে জেলা এবং পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নজরদারি।
নাটোরের চকবৈদ্যনাথের চামড়া আড়তগুলেতে কোরবানির পর থেকে আসতে শুরু করে কাঁচা চামড়া। বিভিন্ন যানবাহনে করে দেশের অন্তত ১৬টি জেলার চামড়া আসছে এখানে। তবে কাঁচা চামড়ার আমদানি ভাল হলেও দাম নিয়ে হতাশ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। গত বছরের মতো এবারও চামড়ার দাম না পেয়ে লোকসানে তারা। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছে, নাটোরের চামড়া ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চামড়া কিনতে বলে তারা এখন কম দাম বলছে। যার কারণে বেশির ভাগ মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী লোকসানে পড়েছে। এছাড়া খাসির চামড়া ক্রয় করছে না। ক্রয় করলেও প্রতিপিস চামড়ার দাম বলছে ১৫ থেকে ২০টাকা। অথচ তার চেয়ে বেশি দামে চামড়া ক্রয় করা হয়েছে।
নাটোর কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের উপদেষ্টা মুঞ্জরুল আলম হিরু বলছেন, বিগত দিনের ট্যানারি মালিকদের কাছে ৬০ থেকে ৬৫ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে ব্যবসায়ীদের। এবার করোনা মহামারির সময় নতুন করে বকেয়া না করে নগদ টাকায় চামড়া কেনার দাবি করেন।
এছাড়া সরকার নির্ধারিত দরের মধ্যে চামড়া কেনা বেচা হচ্ছে। তাছাড়া ব্যবসায়ীরা ঠিকমত টাকা না পাওয়ার কারণে চামড়া ক্রয় করতে পারছেনা বলে জানান, নাটোর কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফ।
এদিকে, চামড়া পাচার রোধে কাজ করছে ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। পোশাক এবং সাদা পোশাকে নিয়োজিত রয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। নাটোরের চামড়ার বাজার পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ, পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা। চামড়া যাতে পাচার হতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সদস্যরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।
এবার নাটোরে গরু আড়াই থেকে তিন লাখ এবং খাসি-ছাগল ৫থেকে ৭লাখ পিচ চামড়া আমদানির আশা ব্যবসায়ীদের।