নাটোরে চাহিদার বিপরীতে উদ্বৃত্ত সোয়া দুই লাখ পশু

আপডেট: জুন ১৪, ২০২৪, ৪:৫২ অপরাহ্ণ


আবুল কালাম আজাদ :


পবিত্র ইদুল আজহার আর মাত্র ৩ দিন বাঁকি।ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামি ১৭ জুন সোমবার দেশের মুসলিম উম্মাহর কোরবানির ইদ অনুষ্ঠিত হবে। সারা বিশ্বের ন্যায় নাটোর জেলাতেও জমে উঠেছে কোরবানির পশুহাট।

পাইকারি পশু ক্রেতা ব্যাপারিদের চাপ বেড়েছে হাটে-বাজারে। স্থায়ী গবাদি পশুর হাট ছাড়াও গ্রাম-গঞ্জের হাটেও কুরবানির পশুর অস্থায়ী হাট বসেছে স্থানীয় উদ্যোগে। অভিযোগ উঠেছে চাঁচকৈড়, মৌখাড়া, তেবাড়িয়া, সিংড়াসহ বড় স্থায়ী হাটে ইজারাদারদের দৌরাত্ম্যের কারণে ব্যাপারি, সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতারা গ্রামে গড়ে ঊঠা হাটগুলোতে পশু ক্রয়বিক্রয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এবারে নাটের জেলায় চাহিদার চেয়েও ১০০ ভাগ বেশি উদ্বৃত্ত কোরবানিযোগ্য পশু খামারিরা প্রস্তত করেছেন বলে জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে।

নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত উপজেলাওয়ারি কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর প্রাপ্যতা ও চাহিদার তথ্যে জানা যায়, জেলার ৭ টি উপজেলায় কোরবানির পশু মোটা-তাজাকরণ খামারির সংখ্যা নাটোর সদর ২২৫০, সিংড়া ৩১২৫, গুরুদাসপুর ২৬৬৯, বড়াইগ্রাম ২৮৩৭, লালপুর ৩৪০৬, বাগাতিপাড়া ৪১৫১ এবং নলডাঙ্গা ১১১২ সহ জেলায় মোট ১৮ হাজার ৪৫০ জন খামারি ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২২৭ টি কোরবানির পশু মোটা-তাজাকরণ করে প্রস্তত করেছেন।

এর মধ্যে গরু ১ লাখ ২১ হাজার ৮৪৬টি, মহিষ ২ হাজার ১৬৬ টি, ছাগল ৩ লাখ ২০ হাজার ৩৬ টি, ভেড়া ৩৪ হাজার ১৫০ ,অন্যান্য ২৯ টি ( গাড়ল, দুম্বা প্রভৃতি। জেলায় কোরবানির জন্য মোট চাহিদা ২ লাখ ৫২ হাজার ৪২ টি। চাহিদা পূরণ করার পর উদ্বৃত্ত থাকছে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৮৫ টি। উদ্বৃত্ত পশু রাজধানিসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য ধরা হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

উপজেলাওয়ারি নিরাপদ গবাদি পশুর মাংস উৎপাদনে হৃষ্টপুষ্টকরণ কোররবানির জন্য প্রস্তত গবাদি পশুর প্রাপ্যতা ও চাহিদার সংখ্যা- নাটোর সদরে কোরবানির যোগ্য প্রস্তত গরু- ১৩,৬৪৫ টি,মহিষ -৩৫৫, ছাগল -৬৪,৫৪০, ভেড়া- ৮৯২০টিসহ মোট প্রাপ্যতা-৮৭,৪৬০ টি, চাহিদা ৪২,১৭৯টি, উদ্বৃত্ত ৪৫,২৮১ টি।সিংড়া উপজেলায় গরু- ১৬,০৩৮ , মহিষ-২০৭,ছাগল-৬৯,৯৫৭, ভেড়া-৬,৩৬৪টিসহ মোট প্রাপ্যতা -৯২,৫৬৬, চাহিদা- ৪৫,৩৫০, উদ্বৃত্ত- ৪৭,২১৬ টি। গুরুদাসপুর উপজেলায় প্রস্তত, গরু-৩৪,২০৮,মহিষ-৮৫৪, ছাগল-৫৬,৭৪৬,ভেড়া-৬,০৫২,অন্যান্য-২৯ টিসহ মোট প্রাপ্যতা-৯৭,৮৮৯, চাহিদা-৪৮,৫২০,উদ্বৃত্ত-৪৯,৩৬৯ টি। বড়াইগ্রাম উপজেলায় প্রস্তত, গরু- ১৫,৪৬৭, মহিষ- ৮৪, ছাগল- ৪৪,৩২০, ভেড়া- ৫,৩৫৪ টিসহ মোট প্রাপ্যতা ৬৫,২২৫, চাহিদা-৩৩,২৩৫, উদ্বৃত্ত-৩১,৯৯০ টি। লালপুর উপজেলায় গরু-২২,৭২৯, মহিষ-৪৫১,ছাগল- ১৬,২১২,ভেড়া-১৫৮৯ টিসহ মোট প্রাপ্যতা-৪০,৯৮১, চাহিদা- ৩১,১৩৫, উদ্বৃত্ত -৯,৮৪৬ টি। বাগাতিপাড়া উপজেলায়, গরু- ১২,৬১৭, মহিষ- ১৯৩, ছাগল- ২৪, ৮৭৭, ভেড়া ২৩৫ টিসহ মোট প্রাপ্যতা-৩৭,৯২২ টি, চাহিদা- ২১,৪৪০,উদ্বৃত্ত-১৬,৪৮২ টি এবং বাগাতিপাড়া উপজেলায়, গরু- ৭,১৪২, মহিষ- ২২, ছগল- ৪৩,৩৮৪,ভেড়া- ৫,৬৩৬ টিসহ মোট প্রাপ্যতা -৫৬,১৮৪, চাহিদা- ৩০,১৮৩, উদ্বৃত্ত- ২৬০০১ টি।

গুরুদাসপুর উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগির হোসেন জানান, নাটোর জেলার ৭ উপজেলা মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক কোরবানির পশু মোটা-তাজাকরণ করে প্রস্তত করা হয়েছে। এই উপজেলায় উন্নত জাতের দুম্বা,গারল, ভেড়া ও ছাগল প্রস্তত করেছেন খামারিরা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে দায়িত্বরত চিকিৎসক, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্যারাভেট ও স্বেচ্ছাসেবি সার্বক্ষণিক খামারিদের পরামর্শ ও সেবা প্রদান করছেন। এছাড়া অনুমোদিত বৃহত্তর চাঁচকৈড় হাটসহ নাজিরপুর, নয়াবাজার, বিন্যাবাড়ি ও কাচিকাটা কোরবানির হাটে পশুর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য চিকিৎসা টিম কাজ করছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Exit mobile version