নাটোরে দলিল লেখক সমিতি দখল নিয়ে অস্ত্রের মহড়া যুবলীগ নেতাক কুপিয়ে জখম. দু’জন হাসপাতালে ভর্তি

আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২২, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি:


নাটোরের বাগাতিপাড়ায় দলিল লেখক সমিতি দখল নিয়ে দেশিয় অস্ত্রের মহড়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে সমিতির সদস্যদের মধ্যে। অফিস চত্বরে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে হামলায় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আইয়ুব আলীর ডান হাতের আঙ্গুল কেটে গেছে। এছাড়া পৌর যুবলীগের সভাপতি মিজানকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। বর্তমানে তারা দু’জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। গত রোববারের দিন কমিটি গঠণের দ্বন্দ্বের জের ধরে উপজেলা চত্বরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগাতিপাড়া উপজেলা দলিল লেখক সমিতিতে সম্প্রতি আরশেদ আলীকে সভাপতি ও আনিসুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে এক পক্ষ উপজেলা দলিল লেখক সমিতি গঠন করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলিল লেখকদের মধ্যে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেশিয় অস্ত্রের মহড়া চালিয়ে হামলা করা হয়। সোনাপাতিল মহল্লার মৃত জাবেদ আলীর ছেলে আইয়ুব আলী এবং একই এলাকার শমসের আলীর ছেলে দলিল লেখক মিজানুর রহমান গুরুত্বর আহত হন। আহতদের বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে আইয়ুব আলীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে দলিল সম্পাদন বন্ধ হয়ে যায়।দলিল লেখক সমিতির বর্তমান কমিটির সভাপতি আরশেদ আলী জানান, সমিতির মধ্যে কিছু অসাধু লোকের কারনে বারবার বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তেমনি হঠাৎ করেই আজকে এমন ঘটনা ঘটেছে। দলিল লেখক সমিতির বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান বলেন, সংঘর্ষে তিনি নিজেও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। তবে ঘটনার পর থেকে দলিল সম্পাদন বন্ধ রয়েছে বলে তিনি জানান।

অপর পক্ষের দলিল লেখক নেতা রুহুল আমিন সরকার বলেন, বর্তমান এমপি সমর্থিত দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা অবৈধভাবে সমিতির নামে তাদের প্রভাব বিস্তার করে আসছে। এ নিয়ে কথা বলা হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়। দলিল সম্পাদনের জন্য সরকারি ফি এর চেয়ে তাদের সমিতিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের নিয়ম না মেনে শুধুমাত্র সরকারি ফি নিয়ে দলিল সম্পাদন করতে গেলে তারা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত ও জখম করেছে।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে এ ঘটনার কিছু ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। ফুটেজ দেখে ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হব।