নাটোরে দুই দিন ধরে টাকা শূন্য ব্যাংকের বুথ ।। হয়রানির শিকার গ্রাহকরা

আপডেট: জুন ২৯, ২০১৭, ১:০০ পূর্বাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা থাকা সত্বেও নাটোরের বেশির ভাগ ব্যাংকের বুথে টাকা শূন্য হয়ে পড়েছে। এতে ঈদের আগে টাকা না পেয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বেশির ভাগ ব্যাংকের গ্রাহকরা। তবে সবচেয়ে বেশি অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে ব্র্যাক এবং যমুনা ব্যাংকের বুথগুলোতে। টাকা তুলতে এসে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের। ফলে ঈদের কেনাকাটা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অনেকেই।
সূত্র জানায়, সুষ্ঠু ভাবে ঈদ উদযাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক বেসরকারি সকল ব্যাংকের বুথে পর্যাপ্ত পরিমাণে টাকা জমা রাখার নির্দেশনা জারি করে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের সে নির্দেশনা তোয়াক্কাই করে নি ব্র্যাংক এবং যমুনা ব্যাংকসহ নাটোরের বেশির ভাগ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। গত দুই দিন ধরে ্ওই দুটি ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তুলতে পারছে না গ্রাহকরা। এছাড়া ফাস্ট সিকিউরিটিস ব্যাংক, রাষ্ট্রয়াত্ব সোনালী ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের একই অবস্থা।
ব্যাংকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার ঈদের ছুটির কারণে তড়িঘড়ি করে ব্যাংক বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট শাখার ম্যানেজাররা। যার কারণে বেশির ভাগ বুথে টাকা জমা করতে পারেনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া কিছু কিছু ব্যাংক টাকা জমা রাখলেও মুহুর্তের মধ্যে তা শেষ হয়ে যায়। ফলে টাকা তুলতে না পেরে অনেকই বলছে ঈদের কেনাকাটা হবে না।
বড়াইগ্রাম উপজেলার আহম্মদপুর এলাকার আতিকুল ইসলাম ঢাকায় প্রাণ কোম্পানিতে চাকরি করেন। নিজের নিরাপত্তার জন্য বেতন বোনাস সঙ্গে নিয়ে আসেন নি। পরিবার-পরিজনকে ঈদের নতুন পোশাক কিনে দেয়ার জন্য শহরের কানাইখালি এলাকার ব্র্যাক ব্যাংকের বুথে টাকা তুলতে আসেন তিনি। কিন্তু এসেই বুথের নিরাপত্তা কর্মীদের কাছ থেকে শুনেন বুথে কোন টাকা নেই। ফলে মাথায় বাজ পড়ার মতো অবস্থা তার। আতিকুল ইসলাম বলেন, বুথে টাকা না পাওয়ার কারণে এবার তার পরিবার-পরিজনকে নতুন পোশাক কিনে দেয়া সম্ভব হবে না। প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন সিংড়ার হাতিয়ানন্দাহ এলাকার মোরশেদ হোসেন। কিন্তু ব্র্যাক ব্যাংকের বুথে টাকা তুলতে এসে খালি হাতে ফিরে যেতে হয় তাকেও। সংবাদ কর্মী নাজমুল হাসান বলেন, তার অফিসের বেতন বোনাস ব্র্যাক ব্যাংকে আসে। প্রতি ঈদের ব্যাংকগুলো বুথে টাকা না রেখে বন্ধ করে দেয়। যার কারণে হঠাৎ করেই গ্রাহকদের চরম হয়রানির শিকার হতে হয়। তিনি আরো বলেন, ব্যাংকগুলো চার্জ কাটে। কিন্তু সেবার বেলায় ঠনঠনাঠন।
ব্যাংকের বুথগুলোতে টাকা তুলতে আসা বেশির ভাগ গ্রাহকই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই মানতে হবে। অথচ কোন ক্ষমতা বলে এসব ব্যাংক কাজ করছে তা তাদের বোধগম্য নয়। এ ব্যাপারে ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজার তাপস কুমার সাহা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা থাকলেও শুক্রবার থেকে বুথ খোলা রযেছে। টাকা শেষ হয়েছে গেছে। তবে হেড অফিসের জটিল প্রক্রিয়ার কারণে বুথে পুনঃরায় টাকা জমা করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ