নাটোরে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সেতু নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ!

আপডেট: জুলাই ১৩, ২০১৭, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


আবারো নাটোরে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সেতু নির্মাণে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নি¤্ন্নমানের সামগ্রী আর ইচ্ছামতো পরিমান পাথর, বালি, রড, সিমেন্ট ব্যবহার করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার প্রতিনিধিদের আড়ালেই তড়িঘড়ি করে চলছে নির্মাণ কাজ। এছাড়াও ব্রিজের নিচে বেইসে পানি নিষ্কাশন না করে ও রিং বাঁধ না দেওয়ায় নির্মাণের সময়ই ভেঙে পড়েছে সেতু।
সূত্র মতে জানা গেছে, নাটোর সদর উপজেলার জোলার বাতাখালের উপর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার প্রতিনিধিদের অগোচরেই চলতে থাকে এ সেতুর নির্মাণ কাজ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই বৃষ্টির দিনে কোন প্রকার বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে চলতে থাকে ঢালাই কাজ। খবর পেয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আয়েশা সিদ্দিকা উপস্থিত হয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও তার সঙ্গে বাক বিতণ্ডায় জড়িয়ে নির্মাণ কাজ চালু রাখেন ঠিকাদাররা। সেতু নির্মাণে নি¤্ন্নমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এলাকাবাসীর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, কোন রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই নি¤্নমানের সামগ্রী দিয়ে চলছে বহুদিনের প্রতিক্ষিত সেতুটির নির্মাণ কাজ। প্রভাবশালী হওয়ায় এসব ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। সেতু নির্মাণে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানান তারা।
পরে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে অনিয়মের বিষয়ে শ্রমিকদের উপর দায় চাপান ঠিকাদার আশফাকুল আলম প্রিন্স। তিনি বলেন, তাকে না জানিয়েই শ্রমিকরা কাজ করছিল। তিনি বিষয়টি জেনে তদারকি করছেন। সেতু নির্মাণে কোন অনিয়ম হবে না।
এ বিষয়ে নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আয়েশা সিদ্দিকা জানান, অনিয়ম হচ্ছে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। এক্ষেত্রে তার কিছু করার নেই। নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে ঠিকাদারদের স্বেচ্ছাচারিতাকে দায়ী করেন তিনি। তিনি বলেন, গত ২৩ এপ্রিল হালসায় ঠিকাদার এক যুবলীগ নেতার ঢালাই কাজ দেখে ফেরার পথে কুপিয়ে জখম করা হয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের দুই প্রকৌশলী আবু সাইদ ও মাসুদ রানাকে। এক্ষেত্রে তিনিও যে শারিরীক আক্রমণের শিকার হবেন না তার নিশ্চয়তা কে দেবে?
অপরদিকে, ব্রিজের নিচে বেইসে পানি নিষ্কাশন না করে ও রিং বাঁধ না দেওয়ায় নির্মাণের সময়ই ভেঙে পড়েছে বড়াইগ্রাম উপজেলার কচুগাড়ি সেতু। কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ঠিকাদার পুনরায় করে দিবে বলেই রেহাই পাচ্ছেন। নিয়মানুসারে সেতু ভেঙে পড়লে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু সেসব বিষয়ে কথা বললে তিনি ঠিকাদার মোহাম্মদ আলীর পক্ষ নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, হঠাৎ সেতু ভেঙে পড়েছে। এতে ঠিকাদাদের লোকসান হলেও তিনি মেরামত করে দেবেন।
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত ফারজানা জানান, সেতু নির্মাণে উপজেলা প্রশাসন নজর রাখছে। এতে কোন অনিয়ম হবে না।
এ বিষয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, যে সেতু ভেঙে পড়েছে তার ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। আর যে ঠিকাদাররা সেতু নির্মাণে নি¤্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছেন তাদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।