নাটোরে দ্বন্দ্বের জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা, মামলা দায়ের

আপডেট: মার্চ ৩, ২০১৭, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ইটভাটার মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে আমিরুল ইসলাম (৩০) নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার মাধববাড়ীয়া এলাকায় মেসার্স একেবি ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত আমিরুল সদর উপজেলার দরাপপুর গ্রামের ছুরমান আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে মেসার্স একেবি ইটভাটার মালিক ও সদর উপজেলার দরাপপুর গ্রামের মৃত বিশারতুল্লাহ সরকারের ছেলে কাবির হোসেন কাঙ্গাল, আমজাদ ও বাগাতিপাড়া উপজেলার হাটগোবিন্দপুর গ্রামের মৃত আমিন উদ্দিনের ছেলে রবিউল ইসলাম মিলে জনৈক শামীম আহম্মেদের কাছ থেকে একটি ইটভাটা ক্রয় করেন। কিন্তু রবিউল নির্ধারিত পরিমান টাকা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে ভাটার মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব বাধে। পরে কাবির ইটভাটার মালিকানা বুঝে পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে কাবির ও আমজাদ মোট ১২ আনা সম্পত্তির মালিক বলে প্রতীয়মান হয়। পরবর্তীতে ওই মামলায় রবিউল গ্রেফতার হলে আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে মর্মে জামিন লাভ করে রবিউল। কিন্তু রবিউল জামিন পেয়ে পরিকল্পিতভাবে বুধবার রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার কাঠালবাড়ীয়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে শাখাওয়াত হোসেন মিন্টু ও তার অন্য সহযোগিদের নিয়ে কাবিরকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মেসার্স একেবি ইটভাটায় প্রবেশ করে। এসময় কাবিরকে না পেয়ে ওই ভাটার সার্বিক কেয়ারটেকার আমিরুল ইসলামকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে হামলাকারীরা। এসময় তারা আমিরুলের কাছ থেকে কাবির হোসেন কাঙ্গালের অবস্থান জানতে চায়। এতে আমিরুল অপারগতা প্রকাশ করলে দুর্বত্তরা তাকে লোহার রড, জিআইপি পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। আমিরুল মাটি থেকে আবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে মিন্টু চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে আমিরুলের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় একেবি ইট ভাটার মালিক কাবির হোসেন কাঙ্গাল বাদী নাটোর আমলী আদালতে মিন্টু ও রবিউলসহ সাত জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের আরএমও আবুল কালাম আজাদ জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমিরুলের মাথায়-কপালে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এ কারণে অনেক রক্তপাত হয়েছে। এছাড়া ক্ষতস্থানে ২২টি সেলাই দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আসামিদের গ্রেফতার চেষ্টা চলবে।