নাটোরে পূর্ব শত্রুতার জেরে চেয়ারম্যানের ছেলেকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম, ইউপি সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৪

আপডেট: জুন ২৩, ২০২৪, ১১:০৩ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি:


নাটোরের ছাতনীতে বিয়ের দাওয়াত খেয়ে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে দুই মেয়ে শিশুর সামনে ছাতনী ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকারের ছেলে আমজাদ হোসেন সরকারকে (৩৪) পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়িভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মামুন পাঠানসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২২ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের মাঝদিঘা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত অন্য তিনজন হলেন, একই এলাকার জামাল পাঠানের ছেলে সোহানুর রহমান কাজল (৩৫), আরশাদ পাঠানের ছেলে রবিউল পাঠান (৩৮) ও মকবুলের ছেলে মো. আলামিন (২৫)।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাতনী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকার নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান অনুসারী। অপরদিকে ইউপি সদস্য মামুন পাঠান স্থানীয় এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের অনুসারী। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছির।

শনিবার নিজের দুই মেয়ে শিশুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন ছাতনী ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকারের ছেলে আমজাদ হোসেন সরকার। প্রতিপক্ষ প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুই মেয়ে শিশুর সামনেই তাদের বাবাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় আমজাদ হোসেনের বাবা তোফাজ্জল হোসেন সরকার বাদি হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

ছাতনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকার বলেন, দাওয়াত খেয়ে আমার দুই নাতনিকে নিয়ে ছেলে বাড়ি ফিরছিল। রাস্তায় তার পথ রোধ করে অতর্কিত হামলা চালায় মেম্বারসহ তার লোকজন। ছেলে রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা খুবই আশংকাজনক। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাই।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও এলাকায় পুলিশ টহল অব্যাহত আছে । হামলার ঘটনায় নাটোর থানায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ