নাটোরে প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

আপডেট: জুন ২০, ২০২৪, ৮:০৩ অপরাহ্ণ


নাটোর প্রতিনিধি:


নাটোর শহরের নব-বিধান বালিকা উচ্চ-বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোবিন্দ সরকারের অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্প্রতিবার (১৯ জুন) দুপুরে শহরের আলাইপুরস্থ একটি চাইনিস রেস্তোরাঁয় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তবে অবৈধ নিয়োগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে না পেরে এবং জাল সার্টিফিকেটধারীদের বেতন করতে না পারায় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে প্রধান শিক্ষক গোবিন্দ সরকারের।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নব-বিধান বালিকা উচ্চ-বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস। এ সংবাদ সম্মেলন থেকে বলা হয়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমান গোবিন্দ সরকার, আমার এবং আমার স্বামীর বিরুদ্ধে গত ৮ জুন বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্টাফ রুমে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন আমি নাকি অবৈধ নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক এবং আমার স্বামী কর্তৃক প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন, বলেছেন চাকরি প্যাটার্ন না থাকা ও জাল সার্টিফিকট এর কারণে বেতন হচ্ছে না।

এটা তার মনগড়া অভিযোগ যার কোনো সত্যতা নাই। ১৪-০৫-১৫ তারিখ থেকে অত্র বিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক হিসাবে পাঠ দানের জন্য নিয়োগ প্রদান করেন এবং আমি বিধি মোতাবেক নিয়োগ প্রাপ্ত হই। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক উমা রানী পালিত, তার কাছ থেকে বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য ১লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ করেন। এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মরহুম এমরান হোসেনের স্ত্রী ছামিনা আক্তার, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হাসিনা ইয়াসমিন, অবসরপ্রাপ্ত নৈশ প্রহরী নুরুল ইসলামের সন্তানসহ অন্যরা উপস্থিত হয়ে তাদের অভিযোগ তুলেন এবং তার বিভিন্ন জায়গায় প্রতিকার চেয়ে প্রতিকার পাননি বলে জানান তারা।

শনিবার (৮ জুন) বিকাল ৫টার দিকে ওই বিদ্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রধান শিক্ষক বিমান গোবিন্দ সরকার। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, কুচক্রি মহল বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে না পেরে নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

এব্যাপারে প্রধান শিক্ষক গোবিন্দ সরকার বলেন, অবৈধ নিয়োগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে না পেরে এবং জাল সার্টিফিকেটধারীদের বেতন করতে না পারায় তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। জান্নাতুল ফেরদৌস নামের যে শিক্ষিকার নিয়োগ ও তার বেতনের কথা বলা হচ্ছে তার কাগজপত্র ৪ বার অনলাইনে প্রেরণ করলেও সনদপত্র জাল হওয়ার কারণে প্রত্যেকবারই তা বাতিল হয়। আর বিদ্যালয় জাতীয়করণের নামে যে টাকা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে তা সত্য নয়। এসব বিষয়ে নাটোর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন প্রধান শিক্ষক বিমান গোবিন্দ সরকার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Exit mobile version