নাটোরে প্রবাসীরা মানছেন না হোম কোয়ারেন্টাইনে নিয়ম

আপডেট: মার্চ ২১, ২০২০, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি


নাটোরে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসীরা স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা না মেনে হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রবাসীরা হাট-বাজার, হোটেল-রেস্তোরা, আত্মীয় স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে সাধারণ মানুষ। জেলা প্রশাসন বিষয়টি অবগত হয়ে তাদেরকে হোম কোয়ারাইন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দিচ্ছেন। কিন্তু কোন ভাবে তারা মানছেনা না। বাধ্য হয়েই স্থানীয় প্রশাসন মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করছেন ।
ইতোমধ্যে একজনকে জরিমানা করা হয়েছে। সতর্ক করে দেয়া হয়েছে ৫ জনকে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ এ নিয়ম মেনে না চললে তা সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের জানাতে বলা হয়েছে।
অপরদিকে সরকারের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন মসজিদ ও ধর্ম প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের করোনা প্রতিরোধে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য অনুরোধ করা হয়।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলার শুধুমাত্র সিংড়া উপজেলাতে ১৮৮ জন প্রবাসী এলাকায় ফিরেছেন। এদের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন মাত্র ৬ জন। এসব কারণে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক দেখা দিচ্ছে। উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি উপজেলায় টিম করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রবাসীদের হোম কোয়ারাইন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দিয়ে সতর্ক করে বলছেন এ নিয়ম না মানা হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গতকাল শুক্রবার সিংড়ায় ভ্রাম্যমান আদালত এনামুল হক নামে একজন প্রবাসীর ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
এব্যাপারে নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান, নাটোরে কেউ করোনা আক্রান্ত না হলেও বিদেশ থেকে আসা ৫০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শওকত মেহেদী সেতু ও আবু হাসান জানান, বিশেষ সতর্কতার অংশ হিসেবে সবাই কোয়ারেন্টাইনে ঠিকঠাক আছে কিনা তা নজরদারি করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের আলাইপুর এলাকায় জনসচেতনতা গড়ে তুলতে মসজিদের ইমাম ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। সম্প্রতি ওই এলাকায় ইতালি ফেরত এক ব্যক্তি গা ঢাকা দিয়েছে।
এছাড়া সদরের লক্ষীপুর টলটলিয়া গ্রামে গিয়ে মালয়েশিয়া ফেরত জাকির মিয়ার স্বজনদের সতর্ক করা হয়। কয়েকদিন আগে জাকির মিয়া মালয়েশিয়া থেকে ফিরে নরসিংদী থেকে নাটোরে শ্বশুড়বাড়িতে বেড়াতে এসে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে জাকির মিয়াকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখাসহ নজরদারি করতে অনুরোধ করা হয়।
এছাড়া শুক্রবার সকালেও শহরের দিঘাপতিয়া ও উত্তর চৌকিরপাড় এলাকা পরিদর্শন করে বিদেশ ফেরত ব্যক্তিরা ঠিকঠাক মতো হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন কিনা তা নজরদারি করা হয়। পরে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নাজাজের পর করোনা সতর্কতায় সবাইকে সচেতন থাকার আহবান জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু হাসান।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, কতজন প্রবাসী জেলায় ফিরছেন তার প্রকৃত পরিসংখ্যান নেই তাদের অথবা জেলা প্রশাসনের কাছে । ফলে প্রাপ্ততথ্যের ওপর ভিত্তি করে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনের কাজ পরিচালনা করতে হচ্ছে। এসব কারণে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করাসহ কোন প্রবাসীরা হোম কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম না মানলে তা প্রশাসনকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
এছারাও বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতে ইমামদের বক্তব্যসহ করোনা মুক্ত দেশের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয় । শুক্রবার বাদ জুম্মা এই দোয়াও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
সূত্র মতে, সরকারের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন মসজিদ ও ধর্ম প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের করোনা প্রতিরোধে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য অনুরোধ করা হয়। সে অনুযায়ী শুক্রবার বিভিন্ন মসজিদে ইমাম করোনা বিস্তার এবং করোনা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান। এছাড়া বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বে করোনা মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বক্তব্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু হাসান বলেন, করোনা আমাদের দেশে সৃষ্ট ব্যাধি নয়। যেসব প্রবাসী দেশে ফিরছেন তাদের মধ্যে কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তার মাধ্যমে পরিবার এবং সমাজে এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। এসময় সকল প্রবাসীকে ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার আহবান জানান। কারণ ওই প্রবাসী আক্রান্ত না হলে ১৪ দিনেই তা বুঝা যাবে এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে চলা ফেরা করতে পারবেন। দেশ ও জাতির স্বার্থে বিষয়টি সবার মেনে চলা উচিৎ। পরে কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম করোনা মুক্তির জন্য মোনাজাত করেন।
সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান, কেউ হোম কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম না মানার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করছি।
জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ জানান, আমরা এ বিষয়ে তৎপর রয়েছি। প্রবাসীরা নিয়ম মেনে চলছেন কিনা সে বিষয়ে আমাদের নজরদারী বৃদ্ধি করা সহ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার করা হচ্ছে। একাজ অব্যাহত থাকবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ