নাটোরে ভুঁইফোড় সংগঠনের নামে লাখ টাকার চাঁদা আদায় || চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ অটোচালকদের বিক্ষোভ ও থানা ঘেরাও

আপডেট: মার্চ ২০, ২০১৭, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস



নাটোরে অবৈধ সংগঠনের সদস্যদের চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পৌরশহরে চলাচল করা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালক-মালিকরা। সদর থানা অটোবাইক মালিক সমিতির নামের একটি ভুঁইফোড় সংগঠনের নামে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা তুলছে একটি চক্র।
অবৈধ সংগঠনটির চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে গতকাল রোববার দুপুরে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে থানা ঘেরাও করে আন্দোলন করেছে বিক্ষুদ্ধ ইজিবাইক চালক-মালিকরা। এসময় তারা অবিলম্বে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিক্ষুদ্ধ অটোচালক ও মালিকরা জানান, নাটোর পৌর শহরে প্রতিদিন অন্তত তিন হাজার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলাচল করে। আর এসব ইজিবাইক থেকে ভুঁইফোড় সংগঠন (সদর থানা অটোবাইক মালিক সমিতি) প্রতিটি ইজিবাইক থেকে মাসে দুইশ টাকা আদায় করে। সংগঠনের টাকা আদায় করার জন্য শহরের সাতটি স্পটে লোক নিয়োগ করেছে অবৈধ সংগঠনটি। অনেক সময় চাঁদা না দিলে সংগঠনের লোকজনের হাতে মারধরের শিকারও হচ্ছে চালকরা। প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি হলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। নামসর্বস্ব এই সংগঠনের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করা হলেও প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি।
অটোচালক ও মালিকরা আরো বলেন, একজন আটোচালক সংগঠনভুক্ত হতে হলে তাকে দুই থেকে তিন হাজার টাকা দিতে হয়। না দিলে সংগঠনভুক্ত হওয়া যায় না। তাছাড়া অনেকে সংগঠনভুক্ত না হলে জোর করে গাড়ির চাবি কেড়ে আটকে দেয়া হয়। ফলে বাধ্য হয়ে চালক-মালিকরা টাকা দিয়ে সংগঠনভুক্ত হয়। এছাড়া সম্প্রতি ওই সংগঠন থেকে শহরের প্রতিটি স্থানে ভাড়া দ্বিগুণ করা হয়েছে। এই ভাড়ার তালিকা নিতেও সংগঠনের সদস্যদের টাকা দিতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সদর থানা আটোচালক-মালিক সমিতির অধীনে অন্তত তিন হাজার ইজিবাইক রয়েছে। এসব ইজিবাইক থেকে প্রতিমাসে দুইশ টাকা করে নিলে মাসে ৬ লাখ টাকা আদায় হয়। তবে আদায় করা বেশিরভাগ টাকা যায় ক্ষমতাসীন দলের ৩২ জনের পকেটে।
এই অবস্থায় ইজিবাইক থেকে চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে রোববার দুপুরে শহরের হাফরাস্তা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিক্ষুদ্ধ চালক-মালিকরা। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সদর থানাও ঘেরাও করে।
এসময় নূর নবী নামের এক চালক বলেন, যে সংগঠনের নামে চাঁদা নেয়া হচ্ছে, সে সংগঠন চালকদের কোনো কাজে আসছে না। এক শ্রেণির লোকজন অবৈধভাবে টাকা তুলে নিজেদের পকেট ভারী করছেন।
আরেক অটোচালক ও মালিক মজিদ হোসেন বলেন, আগে শহরের সাতটি স্পটে স্লিপের মাধ্যমে সংগঠনটি ৫টাকা করে চাঁদা তুলে আসছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রতিমাসে দুইশ টাকা দিতে হচ্ছে। অনেক সময় টাকা না দিলে চালকদের মারধর করা হয়।
তিনি আরো বলেন, অন্য জেলার বা অভ্যন্তরীন রুটের কোনো ইজিবাইক শহরে আসলে তাদেরকে জিম্মি করে ৪ থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত আদায় করে সংগঠনটির নামে। এ চাঁদা না দিলেই মারধর করে।
তবে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে চাঁদা আদা করা হলেও এর সঙ্গে জড়িতরা তুলে ধরছেন নানান যুক্তি। সদর থানা অটোবাইক মালিক সমিতির সাধারণ আবদুর রহিম জানান, নাটোর সদর আসনের সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুলের নির্দেশে অটোচালকদের সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য টাকা আদায় করা হয়। হাফরাস্তার বিএনপি নেতা মিলন টাকার ভাগ চেয়ে না পেয়ে ধানকাটার শ্রমিকদের নিয়ে অন্দোলনে নেমেছে বলে তিনি দাবি করেন।
সদর থানা অটোবাইক মালিক সমিতির সভাপতি ও নাটোর পৌরশহরের কাউন্সিলর নান্নু শেখ বলেন, যানজট নিরসন ও কল্যাণ ফান্ডের নামে টাকা উত্তোলন করা হয়। স্থানীয় অটোচালক এবং মালিকদের অনুরোধে সংগঠনটি করা হয়েছিল। আগে শহরের বিভিন্ন স্পটে সংগঠনের চাঁদা তোলা হতো। কিন্তু পুলিশ সুপারের নির্দেশে এখন আর তোলা হয় না।
তবে সমিতির বৈধ কোন রেজিস্ট্র্রেশন নেই স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে অটোচালকদের কাছ থেকে ২শ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। তবে সংগঠনটির দখল নিয়ে বিরোধ থাকায় একটি পক্ষ আন্দোলন করেছে।
নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরি জলি বলেন, অবৈধভাবে সংগঠনটি চাঁদা তুলছে। চাঁদাবাজদের অতিষ্ঠে চার থেকে পাঁচশ ইজিবাইক চালকরা বন্ধের জন্য আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভুঁইফোড় সংগঠনটি বিলুপ্ত করে পৌরসভার পক্ষ থেকে শহরে মাইকিং করা হবে।
অটোচালক ও মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, বিক্ষুদ্ধ চালক-মালিকরা চাঁদাবাজ সংগঠন এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠন এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ