নাটোরে রিকশা চালককে পেটালেন পুলিশ অফিসার

আপডেট: জুন ২৯, ২০২৪, ৮:১৫ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি:


নাটোরের সিংড়ায় এক অটোরিকশা চালককে পেটালেন পুলিশের অফিসার উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সেলিম রেজা। ২ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) রাত ১১টার দিকে সিংড়া উপজেলা পরিষদ- সিংড়া বাস্ট্যান্ড রোডের দেশ ফার্নিচার দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত পুলিশ ওই কর্মকর্তা সিংড়া থানায় কর্মরত এবং ভূক্তভোগী ওই অটোরিকশা চালকের নাম হারুন আলী। তিনি সিংড়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাইশা গ্রামের বাসিন্দা। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায়, রিকশা চালক হারুন আলীকে যেতে বলছেন আর টস লাইট দিয়ে চালকের মাথায় মারধর করছেন। এঘটনায় ভুক্তভোগী প্রতিকার চেয়ে কোনো অভিযোগ করার সাহস পাচ্চেন না।

মারধর করার পর ছেড়ে দিলেও তার কোনো দুঃখ ছিলনা, তার বার বার বলেও তার অকেজো অটোরিকশা নিয়ে যাওয়া যাবে না। এমনটার বলার পরও তাকে দিয়ে গায়ের শক্তিতে তিনজনকে ঘটনাস্থল থেকে সিংড়া বাস্ট্যান্ড পর্যন্ত টেনে নেয়ায় বেশি আহত হয়েছেন রিকশা চালক হারুন। তবে অভিযোগ না পেলেও তদন্ত করে আইনগত ভাবে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম (পিপিএমবার) ।

জানা যায়, ভুক্তভেগী রিকশা চালক হারুন আলী দমদমা থেকে সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে যাচ্ছিলেন। এসময় উপজেলা পরিষদ রোড়ে দেশ ফার্নিচার দোকানের সামনে পৌঁছালে এসআই সেলিম রেজা রিকশা থামায়। এরপর এএসআই, এক পুলিশ কনস্টেবলসহ তিনজন তার রিকশায় উঠে বসেন। এবং তাদের সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যেতে বলেন। এসময় চালক এএসআইকে বলেন, স্যার মিটারের তার সংযোগ লুজ হয়ে গেছে, গাড়ি যাচ্ছে না। অনেক কষ্টে আমি হাত দিয়ে তার ধরে এ পর্যন্ত এসেছি; অকেজো হওয়া এই রিকশা নিয়ে যাওয়া যাবে না।

ওই ভিডিওতে এসআই কে বলতে শোনা যায়, আরে বেটা আমি তোরে বলছি তুই যা, একে বারে কান ফাটাই ফেলাবো যা যা। এসময় অকথ্য ভাষায় রিকশা চালককে গালিগালাজ করতে থাকেন। এক পর্যায় এসআই ক্ষুদ্ধ হয়ে তার হাতে থাকা টস লাইট দিয়ে চালকের মাথায় মারধর করতে থাকেন। পরে আবারও দ্বিতীয় দফায় চালকে মারধর করতে দেখা গেছে। এসময় চালকের কান্নায় আশপাশের লোকজন জড়ো হলে তাদের ধমক ও গালি দিয়ে সরিয়ে দেন এসআই। এরপর চালক ওই এএসআইসহ তিনজন রিকশায় নিয়ে চলে যান।

এ বিষয়ে ভূক্তভূগি ওই অটোরিকশা চালক হারুন আলীর যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রাতে দমদমায় আমার রিকশার মিটারের তার ছিঁড়ে যায়। আমি এক হাত দিয়ে তার চেপে অনেক কষ্টে বাসস্ট্যান্ডে যাচ্ছিলাম। এসময় কোর্ট মাঠ পার হলে  দুই পুলিশসহ তিনজন রিকশা থামায়। তারা আমাকে বলে, তোক সিগন্যাল দিলাম, তুই দাঁড়ালি না কেন। আমি বললাম, আমি বুঝতে পারিনি স্যার। আমার গাড়ির মিটারের একটি তার ছিঁড়ে গেছে তাই মেরামত করতে সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে যাচ্ছিলাম। এসময় তিনজন আমার রিকশায় চড়ে বলে চল থানায়।

এরপর আমাকে ওই এসআই পুলিশ অনেক মারধর করতে থাকেন। পরে আমার নষ্ট গাড়িতে তিনজন উঠে জোর করে আমাকে দিয়ে টেনে সিংড়া বাসষ্ট্যান্ডে নিয়ে যায়। আমরা গরীব মানুষ বলে কি আমাদের কোনো ইচ্ছা, সুবিধা-অসুবিধার মূল্য নেই। আমাকে মারধর করছে দুঃখ পেলেও সয়েছি কিন্তু তাকে দিয়ে ঘটনা স্থল থেকে সিংড়া বাস্ট্যান্ড পর্যন্ত গায়ের শক্তিতে হাতে টেনে তিনজনকে নিয়ে যাওয়া বেশি আহত হয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে পুলিশের অফিসার উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সেলিম রেজা বলেন, ওই রিকশা চালককে তিনি কোন মারধর করেন নাই, শুধু তাকে যেতে বলেছেন এসংক্রান্ত প্রতিবেদকের কাছে ভিডিও রয়েছে জেনে ফোন কেটে দেন।
সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আবুল কালাম বলেন, এ বিষয়টি যানতেন না। শনিবার সকালে শুনেছেন রিকশা নিয়ে যেতে রাজি হয় নাই, তাই ধমক দিয়েছে। তবে ভিডিওটা খতিয়ে দেখবো।

এ বিষয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম (পিপিএম বার) বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। অভিযোগ না পেলেও তদন্ত করে আইনগত ভাবে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন যে যতটুকু অপরাধ করবে তার সেই টুকু বিচার হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ