নাটোরে শ্বাসরোধ করে অন্তঃসত্তা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৭, ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


নাটোরে হাসনা হেনা নামের ৭ মাসের গর্ভবতী স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বামী শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এদিকে ঘটনার পর থেকে স্বামী ও শ্বাশুড়ি পলাতক রয়েছে। গত শুক্রবার সকালে নাটোর সদর উপজেলার করোটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত হাসনার বাবা বাদি হয়ে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান ও নিহতের বাবা জয়নাল মুন্সি জানান. গত ৪ বছর পূর্বে সদর উপজেলার করোটা গ্রামের সামসুল হকের ছেলে শরিফুল ইসলামের সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে বিয়ে করে হাসনা হেনা। এরপর থেকে তারা সংসার করা অবস্থায় যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে শরিফুল ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরে নিহতের বাবা তার মেয়ে জামাইকে নগদ এক লাখ টাকা যৌতুক দেন। এরপরও তাদের চাহিদা বাড়তে থাকে এবং পরবর্তিতে দুই লাখ টাকা দাবি করে শরিফুল ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ নিয়ে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে তাদের বিচ্ছেদ হয়। পরে হাসনা হেনা ও শরিফুল ইসলাম পুনরায় বিয়ে করে সংসার শুরু করে। এরপর তাদের সংসারে আবার যৌতুকের চাহিদা শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে হাসনাকে মারধর করে বাবার কাছে যৌতুক চেয়ে মোবাইল করায় শরিফুল। এসময় হাসনার বাবা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন বাড়ির ভিতরে হাসনার মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাটি পুলিশকে জানান এবং সেখানে তারা পৌঁছে মেয়ের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদি হয়ে জামাই শরিফুল ইসলাম ও তার মা সাহারা বেগমের নামে ও অজ্ঞাত আরো ৩জনের নামে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ঘটনার পর থেকে শরিফুল ইসলাম ও তার মা পলাতক রয়েছে। এ বিষয়ে নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমানবলেন, ময়না তদন্তের রির্পোট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ