নাটোরে সরকারি জায়গা দখল করে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ || কেটে ফেলা হয়েছে ১২টি গাছ

আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০১৭, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস



নাটোরে সরকারি জায়গায় প্রাচীর নির্মাণ করে প্রতিবেশীর চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে অপর এক প্রতিবেশী। তাছাড়া সরকারের এক অতিরিক্ত সচিবের প্রভাবে খাটিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে সড়ক বিভাগের ১২টি গাছ। এই ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর মারমুখি হয় দখলদাররা। হরিশপুর এলাকার ডা. কানাই সরকার জানান, তার পৈত্রিক জমি অধিগ্রহণ করে ঢাকা-রাজশাহী বাইপাস সড়ক নির্মাণ করে সরকার। পরে বাড়ি সরিয়ে নেয়ার পর অধিগ্রহণকৃত জমির ওপর দিয়ে যাতায়াত করতেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি ওই রাস্তায়  প্রতিবেশী গনেশ নারায়ন দেব প্রাচীর নির্মাণের কারণে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানায়, ডা. কানাইয়ের প্রতিবেশী গনেশ নারায়ন দেবের এক আত্মীয় অতিরিক্ত সচীব। আর সচীবের প্রভাবে দখল করা হয় সরকারি ওই জমি। পাশাপশি কেটে ফেলা হয় সেখানে থাকা বিভিন্ন প্রাজাতির সরকারি ১২টি গাছ। গাছগুলোর কাঠ বাড়ির সামনে থাকলেও সচীবের প্রভাবেই চারদিনেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
গতকাল শনিবার সকালে পৌরমেয়র উমা চৌধুরী জলি, সড়ক বিভাগের কর্মচারী ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অবৈধ এই প্রাচীর ভেঙে ফেলতে শুরু করে সড়ক বিভাগ। তবে হঠাৎ করে অজ্ঞাত কারণে বন্ধ হয়ে যায় প্রাচীর ভাঙার কাজ। সকলেই চলে আসেন। আসার সময় সকলেই বলেন পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি দখলদারের লোকজনের মারমুখী আচারনের শিকার হন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ ২৪’র প্রতিনিধি নাসিম উদ্দিন ও যমুনা টিভির প্রতিনিধি নাজমুল হাসান।
তবে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নশকার আবদুল বারী জানান, তাদের জায়গার ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আজ রোববার অফিস খুললে কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা শেষে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বন বিভাগের নাটোর সদর উপজেলা কর্মকর্তা দেদুল হোসেন জানান, গত বুধবার দখলদাররা সরকারি জায়গায় ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী এই গাছগুলো কেটে ফেলেছে। তিনি বৃহস্পতিবার দখলদারদের নোটিশ করেছে। পাশাপাশি তিনি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। রোবাবার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জলি জানান, রোববার দুইপক্ষকে ডেকে প্রযোজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে গনেশ দেবের পরিবারের কেউ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হন নি। তবে তাদের দাবি, তারা আইনগতভাবেই কাজ করেছেন।