নাটোরে সাড়ে দশ হাজার ঝরেপড়া শিক্ষার্থী পাবে পড়ালেখার সুযোগ

আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০২১, ৭:২৩ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি


প্রাক প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সের ১৮.২ ভাগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। এখনও ২ ভাগ শিশু স্কুলে ভর্তি হয় না। সে হিসেবে দেশের ৩০ লাখ শিশু এখনও শিক্ষার বাইরে। তাদের শিক্ষার আওতায় আনতে সারা দেশের ৩৪৫টি উপজেলায় ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। যার মধ্যে নাটোর জেলার ৫টি উপজেলা এলাকায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। সরকারের এই কর্মসূচি সফল করতে নাটোরে ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন’ প্রোগ্রাম বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গরবার (১৯ জানুয়ারি) দিনভর নাটোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় জেলা উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো এই কর্মশালা আয়োজন করে।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ পিএএ বলেন, সরকার মানুষকে শিক্ষিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কেউ শিক্ষাবঞ্চিত হলে তিনি নিজে কিংবা তার পরিবারই শুধু নয়, সমাজ এবং রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিক্ষাবিহীন মানুষ দৃষ্টিহীনের মতো। তাই প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে ঝরেপড়া এবং এখনও স্কুলে ভর্তি না হওয়া শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে সরকার ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বর্তমান সরকারের এসডিজি বাস্তবায়নে এই প্রকল্প সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
এতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক/ শিক্ষা) নাদিম সারওয়ারের সভাপতিত্বে এ কর্মশালায় বিশেষ অথিতি হিসাবে বক্তব্য দেন, নাটোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান খাঁন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান, প্রল্পের প্রতিনিধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল কাউম প্রমূখ।
সভার শুরুতে এই কর্মশালার মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সহযোগী স্ংস্থা আলোর নির্বাহী পরিচালক শামিমা লাইজু নীলা। নাটোর জেলা উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহ-পরিচালক মোহা. জালালুম বাঈদ এর সঞ্চালনায় এতে মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন, দিঘাপতিয়া এমকে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, শিক্ষাবিদ সুবিরকুমার মৈত্র (অলক) নাটোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জালাল উদ্দিন, আইনজীবী ও সংস্কৃতিসেবি খগেন রায়, সাংবাদিক সুফি সান্ট ুপ্রমূখ।
এতে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সাংবাদিক, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংগঠক এবং নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
নাটোরে প্রকল্প বাস্তবায়কারী সংস্থা পিকেএসএফ এর নির্বাহী পরিচালক ডেইজি আম্মেদ জানান, নাটোরে ৫টি উপজেলার মধ্যে রয়েছে লালপুর-বাগাতিপাড়া, নাটোর সদর- নলডাঙ্গা এবং গুরুদাসপুর। প্রতিটি উপজেলার ৭০টি শিখন কেন্ত্র হবে। এসব কেন্দ্রতে ৩০ জন করে ঝড়ে পড়া শিক্ষাথী ভর্তি হবে, একজন শিক্ষক, উপজেলায় ৫ জন করে সুপার ফাইজার এবং জেলা- উপজেলা পর্যায়ে একজন প্রোগ্রাম ম্যানেজার দায়িত্ব পালন করবেন। এসব শিক্ষাথীরা প্রতিমাসে উপবৃত্তি পাবে ১২০-৩০০ টাকা করে।
একটি শ্রেণিকক্ষে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা (এসএসসি) সম্পন্ন একজন শিক্ষক কর্তৃক এনসিটিবি’র কারিকুলাম ও টেক্সট বই অনুসরণ করে পাঠদান করবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ