নাটোরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৭, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস



নাটোরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মনিরুজ্জামান মনি বিশ্বাস (২৮) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদ- এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত। এছাড়া অপর এক আসামি নিশাত সুলতানা বানুকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নাটোর জেলা জজ আদালতের বিচারক রেজাউল করিম এই রায় দেন।
এছাড়া ধর্ষিতার ছেলে সন্তানের বয়স ১৮ বছর না হওয়ায় পর্যন্ত যাবতীয় খরচ সরকারকে বহনের জন্য নির্দেশ দেন বিচারক। দ-প্রাপ্ত মনিরুজ্জামান মনি বিশ্বাস লালপুর উপজেলার ধুপইল গ্রামের মৃত্য আবদুল কুদ্দুসের ছেলে এবং তিনি ৯ম বেঙ্গল এর সাবেক সেনা সদস্য।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে লালপুর উপজেলার ধুপইল মিশ্রিপাড়া গ্রামের আবদুল রহিমের মেয়ে ও দয়ারামপুর পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী আয়েশা সিদ্দিকা রিফা প্রতিবেশী মৃত কুদ্দুস ডাক্তারের মেয়ে নিশাত সুলতানার কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। সেই সুবাদে নিশাতের ভাই মনিরুজ্জামান মনি বিশ্বাসের সঙ্গে পরিচয় হয় আয়েশা সিদ্দিকার। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে মনিরুজ্জামান বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আয়েশা সিদ্দিকার সঙ্গে দৈহিক সর্ম্পক গড়ে তোলে। এতে আয়েশা অন্ত:সত্বা হয়ে পড়লে আয়েশার পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। মনিরুজ্জামানকে বিয়ের জন্য বললে তিনি অস্বীকার করেন। এরপর আয়েশা সন্তানের জন্ম দেয়। এ অবস্থায় ওই বছরের ১২ নভেম্বর আয়োশার মা রওশন আরা বেগম বাদী হয়ে মনিরুজ্জামান ও তার বোন নিশাত সুলতানার বিরুদ্ধে লালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য অত্র আদালতে প্রেরিত হলে স্বাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বিচারক রেজাউল করিম রোববার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামি মনিরুজ্জামান মনি বিশ্বাসকে সশ্রম যাবজ্জীবন এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। এছাড়া মনিরের বোন নিশাত সুলতানা বানুকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত। আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাড. শওকত হোসেন। বিচারের সময় আসামি এবং ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দ-প্রাপ্ত আসামি মনিরুজ্জামান মনি বিশ্বাস বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে।