নাটোরে স্ত্রী-সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা, স্বামী আটক

আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০২২, ১০:১৮ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি:


পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে স্ত্রী মাছুরা খাতুন (১৯) ও আড়াই বছরের শিশু কন্যা মাহমুদাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী আব্দুস ছাত্তারকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের চৌকিরপাড় এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে স্বামী আব্দুস ছাত্তারকে আটকের পর থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নিহত মাসুরা বেগম সদর উপজেলার দত্তপাড়া গোযালডাঙ্গা গ্রামের মেছের আলী প্রামাণিকের মেয়ে এবং শহরের চৌকিরপাড় এলাকার পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী। আর আটক আব্দুস ছাত্তার ওই এলাকার মৃত হযরত আলীর ছেলে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনছুর রহমান।

নিহতের বাবা মেছের প্রামানিক ও প্রতিবেশীরা জানান, প্রায় বছর আগে পারিবারিকভাবে নাটোর সদর উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা গ্রামে মেছের প্রামানিকের মেয়ের সাথে নাটোর পৌর এলাকার উত্তর চৌকিরপাড় মহল্লার মৃত হযরত আলীর ছেলে আব্দুল ছাত্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ছাত্তারের বাড়িতে অন্য কোন লোকজনকে প্রবেশ করতে দিতো না, তার স্ত্রীও ছিল পর্দশীল। তাই তারা কোন প্রতিবেশী বা আত্মীয় স্বজনদের সাথে যোগাযোগ ছিল কম।

নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনছুর রহমান জানান, গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে পারিবারিক কলহের জের ধরে নাটোর শহরের উত্তর চৌকিরপার এলাকার পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার স্ত্রী মাছুরা বেগম এবং তিন বছরের কন্যা শিশু মাহমুদাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আব্দুস সাত্তার। এসময় হত্যার পর আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে আব্দুস ছাত্তারের বোন গিয়ে তাদের মরদেহ নামিয়ে রাখে। ওই বাড়িতে কাউকে প্রবেশ করতে না দেওয়ার কারণে বিষয়টি অজ্ঞাত ছিল এলাবাসীরা। পরে রোববার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসি। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

নিহতের শাশুড়ি ফাতেমা জানান, সমিতি থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা লোন নিয়েছে। কিন্তু কিস্তির দিন আসলে দিতে পারে না। সেই দিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকত। এজন্য আমি নিজে তাদের থেকে আলাদা থাকি।

স্থানীয় আওয়ামী-লীগ নেতা আব্দুল মান্নান গাজী জানান, রোববার দুপুরের দিকে নিহত মাছুরার ননদ মুঠোফোনে আমাকে জানান, তার ভাবি-ভাতিজি গলায় ফাঁস দিয়ে মরেছে এটা কিভাবে মিটানো যায় একটু দেখেন। তখন সে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু ওই বাড়িতে তাকে প্রবেশ করতে দেয়নি আব্দুল ছাত্তার। সে বলে আমি আমার স্ত্রী-সন্তানকে মারছি। আমিও মরবো, কিন্তু আমার বউয়ের মুখ কাউকে দেখতে দিবনা।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক জুবায়ের জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। তবে তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনায় নিজ বাড়ি থেকেই আব্দুস সাত্তারকে আটক করেছে পুলিশ। অপরদিকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ