নাটোর আদালতে এজলাস ও বিচারক সঙ্কটে ৩০ হাজার মামলার জট

আপডেট: জানুয়ারি ৮, ২০১৭, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


নাটোরে বিচারক ও এজলাস সংকটের কারনে ৩০ হাজার ৫৮৮টি মামলা জটের কবলে পড়েছে। বিচারক সংকটেও গত বছরে প্রায় ২ হাজার  দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলা নিস্পত্তি হয়েছে বলে দাবী জেলা জজ আদালতের।
আদালত ও সংশি¬ষ্ট সূত্রে জানা যায়, নাটোর জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত প্রায় এক বছর ধরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের পদসহ গুরুদাসপুর, বাগাতিপাড়া ও বড়াইগ্রাম আদালতের জজের পদও শুন্য রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেটের পদও শুন্য রয়েছে। অপরদিকে নলডাঙ্গা উপজেলার জন্য কোন জজ বরাদ্দ করা হয়নি। বিচারকের পদ শূন্য থাকার পাশাপাশি স্থান সংকটও রয়েছে। বেশ কিছুদিন রের্কড রুম ও জজ কোর্টর বারান্দা ঘিরে এজলাস করে বিচার কাজ করা হয়। সম্প্রতি ওই ভবনের পশ্চিম পাশের ভবন দোতালা করা হলেও এজলাস সংকট রয়েই গেছে। এখনও জজ আদালত ও জেলা কালেক্টরেট ভবনে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেটদের বিচার কাজ করতে হচ্ছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট আদালতের জন্য কালেক্টরেট ভবন সংলগ্ন জায়গা অধিগ্রহণ করা হলেও অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় ভবন নির্মান কাজ শুরু হয়নি।
জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুত্রে জানা যায়, নাটোর জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন মামলার মোট সংখ্যা ৩০ হাজার ৫৮৮টি। এরমধ্যে জেলা জজ আদালতে রয়েছে ১৫ হাজার ৫০৮টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্র্রাইব্যুনালে রয়েছে ১৬৮৮ টি, জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৭ হাজার ৬১৭টি এবং চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট আদালতে রয়েছে ৫ হাজার ৭৭৫ টি।
এদিকে আদালত ও বিচারক সংকটের কারনে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অনেকেই একটি মামলার জন্য বছরের পর বছর আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন। বছরের পর বছর হাজিরা দিতে গিয়ে বিচারপ্রার্থীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। নাটোর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার পারভেজ বিচারক সংকটের কারণে বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তিসহ অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিচারক সংকটের কারণে নাটোর আদালতে প্রায় ৩০ হাজার মামলা পেন্ডিং রয়েছে । একারণে তাদের মক্কেলদের কাছে মাঝে মধ্যে জবাবদিহি করতে হচ্ছে।
জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল হোসেন খাঁ জানান, বিচারক সংকটের কারণে মামলা জট কমাতে মাননীয় জেলা জজ নিজে তিনটি আদালতের বিচার কাজ দেখেন। তিনি সকাল থেকে রাত অবধি এজলাসে বসে মামলা নিস্পত্তি করছেন।
জেলা জজ মো. রেজাউল করিম বিচারক ও এজলাস সঙ্কটের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট আদালত ভবনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অর্থের যোগান না পাওয়ায় নিমার্ন কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছেনা। বিচাকের শুন্য পদ অচিরেই পুরন হবে। এছাড়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট আদালত ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে এজলাস সংকট থাকবেনা।