নাটোর ও নওগাঁয় বিচার প্রার্থীদের জন্য বিশ্রামাগার উদ্বোধন II সমাজে শালিস ও বিচারের মাধ্যমে মামলা কমানও সম্ভব: প্রধান বিচারপতি

আপডেট: জুন ২৫, ২০২৪, ১১:০০ অপরাহ্ণ


নাটোর ও নওগাঁ প্রতিনিধি:


প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, সমাজে শালিস ও বিচারের মাধ্যমে মামলা কমানো সম্ভব। সেজন্য সবাইকে নিজ নিজ জায়গাহ থেকে উদ্যোগ নিতে হবে। ন্যায় বিচারপ্রাপ্তি সাংবিধানিক অধিকার। মানুষের সেই অধিকার নিশ্চিত করতে বিচার-বিভাগ আগের চেয়ে আরো গতিশীল। তিনি বলেন, আদালতে বিচারিক কার্যক্রম-সম্প্রসারণ ও সেবা প্রত্যাশীদের জন্য কোর্ট-চত্বরে সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) সকালে নাটোর আদালত ও বিকেলে নওগাঁর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বিচারপ্রার্থীদের জন্য নব নির্মিত বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জ’ উদ্বোধন করেন তিনি। পরে এই দুই আদালতে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আইনের আশ্রয় জন্য যারা আদালতে আসেন তারা সুখী মন নিয়ে আসেন না; বিপদে পড়েই আসেন। বিপদগ্রস্ত মানুষদের কথা চিন্তা করে সরকার একটি প্রজেক্টের মাধ্যমে ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশ্রামাগার নির্মাণ করেছেন। বিচারপ্রার্থীদের সাময়িকভাবে বিশ্রামের সুযোগ করে দেওযায় ধীরে ধীরে বিচারের জটিলতা কমে যাবে। এইভাবে বিচার ব্যবস্থা আরও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে বলেও জানান।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিন্তা করলেন যে, এ দেশের সকল মানুষের আইন’র আশ্রায়ের অধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার আছে। সেই অধিকার প্রয়োগ করতে মানুষ আসেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল হাসান বলেন, আমরা খুব চেষ্টা করছি মামলা শেষ করতে। সমাজে কিছু হলেই আমরা মামলা করতে চলে যাই। যদি এটা কমে যায়, তা হলে অনেক অংশে মামলা কমে যাবে। এত মামলা শেষ করতে পারেন না বিচারকরা। প্রতি বছর ১০০ বিচারক নিয়োগ করা হয়। একজন বিচারক নিয়োগের পর মামলা বিষয়ে জানতে হয়, দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে সময় লাগে। একটি পরিসংখ্যান এ দেখিছি, তারা প্রতি বছর নতুন দায়েরকৃত মামলা ৮০% শেষ করতে পারেন। বাকী ২০% থেকেই যায়।

যদি মামলা দায়ের প্রবণতা না কমে, তাহলে মামলা কোনো দিনই শেষ হবেনা। সমাজে কোনও ঘটনা দ্রুত মামলা দায়ের না করে সমাজিক-শালিস ও বিচারের মধ্যে দিয়ে মীমাংসা করলে কমে যাবে। আগের দিনে মানুষ সমাজে বিচার-শালিসের মাধ্যমে ঘটনা নিম্পতি হত। তুচ্ছ ও সাধারণ ঘটনা নিয়ে আমরা মামলা দায়ের করবো না। তাহলে কিন্তু মামলার সংখ্যা কমে আসবে। সেজন্য সবাইকে উদ্যোগ নিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ