নাটোর ও বাঘায় পূণ্যার্থীদের গঙ্গা স্নান

আপডেট: মার্চ ২৮, ২০১৭, ১:১৭ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস ও বাঘা প্রতিনিধি


 নাটোর ও বাঘা উপজেলায় পৃথকভাবে হাজার হাজার পূণ্যার্থীর অংশগ্রহণে বারুনী ও বড়াল নদীতে গঙ্গা স্নান ও গঙ্গাপূজা করেছে। নাটোরে উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বারুনী গঙ্গা ¯œান উৎসব। পাপ থেকে মুক্ত হয়ে পূণ্য লাভের আশায় ভোর থেকে হাজার হাজার পূণ্যার্থীরা সদর উপজেলার বাকসোর এলাকায় গদাই নদী ঘাটে ভীড় করে পূর্নার্থীরা। এসময় পূর্জা অর্চনা সহ নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিন ব্যাপী চলে এই গঙ্গা ¯œান উৎসব। প্রতি বছর  দোল পূর্ণিমার ১২ দিন পর চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে এ পূণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পূর্ব পুরুষের আত্মার শান্তি কামনায় স্নান ও পূজা শেষে পরম শান্তিতে আবার ফিরে যায় সংসার জীবনে। এছাড়াও রাতে আয়োজন করা হয় কালী পূঁজার। সকালে ভক্তিমুলক গান আর কৃর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে, গঙ্গা ¯œান উপলক্ষে বাকসোর ঘাট এলাকা জুড়ে রকমারী পসরা নিয়ে বসেছে মেলা।
এদিকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী ক্ষ্যাপা বাবার আশ্রমের পশ্চিমে বড়াল নদীতে গঙ্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পূজায় দেশের বিভিন্নস্থান থেকে রোগব্যার্ধী সারার জন্য হাজারো হিন্দু ধর্মীয় মানুষ ডালা ভর্তি করে বড়াল নদীতে  গোসল করে ঠাকুরের পাতানো পূজা আসনে বসেন।
পুঠিয়া থেকে আগত অঞ্জলী রানী সরকার নামের এক ৬৫ বছরের বুদ্ধ বলেন, তার নাতী দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ। তার সুস্থ্যতা কামনায় এই গঙ্গাপূজার মানুষা করা হয়। নির্ধারিত তারিখ অনুয়ারী নাতীকে নিয়ে মানুষা দিতে এসেছি। একই ধরনে কথা বলেন, ৭৫ বছরের আড়ানী হালদারপাড়া মহল্লার কালিপদ রানী।
আড়ানী দক্ষিণপাড়া গ্রামের অঞ্জলী কুমার দাস তার নাতী জন্ম প্রতিবন্ধী। তার এই থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তিনি মানুষা করে। এই মানুষার প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে এসেছেন। এই ধরনে মানুষা নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শতশত মানুষ এসেছেন।
আড়ানী ক্ষ্যাপা বাবার আশ্রম কমিটির উপদেষ্টা ও অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রঘুপদ কুমার বলেন, ভারতের জলঙ্গী থানার হুকাহারা গ্রামের শ্রী শ্রী কৃষ্ণ প্রসন্ন খ্যাপা বাংলা ১৩১১ সালে আড়ানীতে আগমন ঘটে। তারপর এখানে একটি আশ্রম তৈরি করেন। এরপর থেকে প্রায় ১১৩ বছর যাবত এই বড়াল নদীতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ রোগ বালাই সারার জন্য মানুষা নিয়ে গঙ্গাপূজা করতে আসে। অনেকের আশা পূরণ করে সুষ্টিকর্তা। আমার বাপ দাদার আমলের আগে থেকে এই নদীতে গঙ্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তার ধারাবাহিকতায় প্রতি বছরের ১২ চৈত্র এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
বড়াল নদীর ধারে পূজা আসরের ঠাকুর বিশ্বনাথ ঠাকুর বলেন, এই বড়াল নদীতে মানুষ জট নামানো, বাচ্চা না হওয়াসহ বিভিন্ন রোগের আরোগ্য লাভের আশায় আসে। সৃষ্টি কর্তার কৃপায় তা ভালো হয়।
আড়ানী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান রানা বলেন, প্রতি বছর এই দিনে দিনব্যাপি গঙ্গা পূজা অনুষ্টিত হয়। এই পূজার স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া দুরদুরান্ত থেকে আগতদের হিন্দু ধর্মীয়দের আশ্রম কমিটির পক্ষ থেকে এক বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।