নাটোর জ্বর-সর্দি কাশিসহ নানা রোগের চিকিৎসা সেবা শুরু করেছে সেনাবাহিনী

আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০২০, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি :


নাটোরে বিভিন্ন রোগে চিকিৎসা সেবা প্রদার করে সেনাবাহিনী- সোনার দেশ

নাটোরে জ্বর-সর্দি কাশিসহ নানা রোগের চিকিৎসাসেবা শুরু করেছে সেনাবাহিনী। সে সঙ্গে কোভিড-১৯ রোগের সংক্রমণ রয়েছে কিনা তা প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করছেন সেনা বাহিনীর প্রশিক্ষিত একটি মেডিকেল টিম। শনিবার ( ৪ এপ্রিল) থেকে নলডাঙ্গা উপজেলার বাসুদেবপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ চিকিৎসা সেবা শুরু করা হয় ।
সেনাবাহিনীর নাটোরে কর্মরত চিকিৎসক টিম সূত্র জানায়, নলডাঙ্গা উপজেলার বাসুদেবপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অস্থায়ী একটি চিকিৎসা টিম চিকিৎসাসেবা শুরু করেছে। প্রথম দিনই জ্বর-সর্দি কাশিসহ নানা রোগ নিয়ে সকাল থেকেই অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পে আসে নানা বয়সী ও শ্রেণিপেশার মানুষ। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে প্রাথমিকভাবে মেডিকেল টিমের সদস্যরা থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে তাপমাত্রা নির্ণয় করছে। এরপর বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সেনাবাহিনীর চিকিৎসাসেবা এবং বিনামূল্যে ওষুধ পেয়ে খুশি সাধারণ মানুষ।
বাসুদেবপুর গ্রামের আমনুরা বলেন, আমার জ্বর-সর্দি কাশি থাকায় তাদেরকে বললে, তারা ভাল-ভাবে দেখে চিকিৎসা দিয়েছে। সে সাথে ওষুধ পেয়েছি।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত ২১ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের একটি প্রতিনিধি দল এ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এসময় আগত রোগিদের চিকিৎসা প্রদান করেন বগুড়া ক্যান্টমেন্টের চিকিৎসাসেবা প্রধান লেফটেনেন্ট কর্নেল ডা. তাহমিনা আক্তার ও সহকারী ক্যাপ্টেন ডা.মাহমুদ। প্রাথমিকভাবে জ্বর-সর্দি কাশিসহ নানা রোগের রোগির সংখ্যাটা বেশি বলে জানান, চিকিৎসক দলের প্রধান লেফটেনেন্ট কর্নেল ডা. তাহমিনা আক্তার।
সকালে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শন করেন নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাকিব আল রাব্বি, ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্যারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ জানান, দূর্যোগকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর এই ধরনের চিকিৎসা সেবা প্রশংসনীয়। আগামী দিনে তারা সবগুলো উপজেলায় এই কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে আশা করছি।
১৭ প্যারা পদাতিক ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক ও নাটোর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডিং অফিসার লেফটেনেন্ট কর্নেল আরিফ বলেন, এই দূর্যোগকালীন সময়ে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে এই ধরনের মেডিকেল ক্যাম্প করার পরিকল্পনা নিয়েছে সেনাবাহিনী। পাশাপাশি জ্বর-সর্দি কাশিসহ কোভিড-১৯ কোনো উপসর্গ রয়েছে কিনা তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর এই ধরনের মেডিকেল টিম জেলার সাতটি উপজেলায় কাজ করবে বলে জানান তিনি।