নাটোর পৌরসভার কাউন্সিলরের স্ত্রী ও ভাইসহ আটক তিন ।। জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

আপডেট: জুলাই ২, ২০১৭, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা সন্দেহে নাটোর পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নান্নু শেখের স্ত্রী, ভাইসহ ৩জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিনগত রাত ২টা থেকে গতকাল শনিবার ভোর পর্যন্ত শহরের কানাইখালি এবং বড়হরিশপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্বে দেয়া পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃতরা হচ্ছে, নাটোর পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের সদস্য নান্নু শেখের স্ত্রী শিউলি আক্তার (৩৮), ছোট ভাই জহুরুল ইসলাম (৩০) ও তার স্ত্রী সেলিনা বেগম (২৭)। তবে অভিযানে মোট ৬জনকে আটক করা হলেও নান্নু শেখের বোন চামেলি বেগম (৪৫), চামেলি বেগমের স্বামী আবদুুল কুদ্দুস (৪৮) এবং তাদের ছেলে টুটুল হোসেনকে (২৩) জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ওয়ার্ড কাউন্সিলর নান্নু শেখের ভাগ্নি জামাই নাটোর সরকারি এনএস কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শেষবর্ষের ছাত্র এবং গুরুদাসপুর উপজেলার জুমাইনগর ফরাসিপাড়া গ্রামের ইয়াহিয়ার ছেলে মাসুদ হাসানের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। এরই সূত্র ধরে জঙ্গি মাসুদ হাসান বড়হরিশপুর এলাকায় নান্নু শেখের বাড়িতে অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নামে জেলা পুলিশ। শুক্রবার দিনগত রাত ২টা থেকে ভোর পর্যন্ত নাটোর শহরের কানাইখালি এবং বড়হরিশপুর এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায় জঙ্গিরা। এসময় জঙ্গিসংশ্লিষ্টতা সন্দেহে এবং আশ্রয়-প্রশয়দাতা হিসেবে তাদের কে আটক করা হয়। অভিযানের সময় কাউন্সিলর নান্নু শেখ বাড়িতে ছিলেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বেশ কিছু দিন ধরেই পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জঙ্গি দমন অভিযান চলছে। এরই অংশ হিসেবে নাটোরে কোন একটি হোটেলে জঙ্গি অবস্থান করছে এমন সংবাদে হোটেলগুলোতে ‘ব্লক রেইড’ অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু সে অভিযান নিস্ফল হয়। আবারো শুক্রবার গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত একই অভিযান পরিচালনা করে জেলা পুলিশ। তবে এবারের অভিযান চলে জঙ্গি মাসুদ হাসানকে ঘিরে। তার সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গত ১১ মে শহরের বড়হরিশপুর এলাকার দুটি বাড়ি ঘিরে রাখে বগুড়া এবং নাটোর জেলা পুলিশ। কিন্তু সে অভিযানও নিস্ফল হয়।
এবিষয়ে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুখ খুলতে নারাজ। এসময় এই প্রতিবেদককে বলেন, পুলিশ সুপারের সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগ করতে।
তবে কাউন্সিলর নান্নু শেখ জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ভাগ্নি জামাই যদি জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সে অপরাধ করেছে। কিন্তু আমার স্ত্রী, ভাই, বোনসহ অন্যরা তো কোন অপরাধ করেনি। গ্রেফতার করা হলে মাসুদ হাসানকে গ্রেফতার করবে পুলিশ।
তিনি আরো বলেন, আমি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। আমিও চাইবো না কোন জঙ্গি সংগঠনের সাথে আমাদের পরিবারের কেউ জড়িত থাকুক। এখন পুলিশ সঠিক তদন্ত করে যেটা পায় সে বিষয়ে মেনে নিতে হবে। তবে তার স্ত্রী, ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী জঙ্গির সাথে জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি।
আটক হওয়ার কথা শুনে বেলা এগারোটার দিকে সদর থানায় আত্মীয়দের দেখতে আসেন সুলতানা খাতুন নামের এক আত্মীয়। এসময় থানায় তার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, মাসুদ তো কোন জঙ্গি গোষ্ঠির সাথে জড়িত থাকতে পারে না। আমরা তো জানি সে ভাল ছেলে।
অভিযানের বিষয়ে নাটোর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরকারের তালিকাভুক্ত একজন জঙ্গির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এবিষয়ে যাচাই-বাছাই করে পরে বিস্তারিত বলা যাবে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ