নাটোর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সুমনা সরকারসহ তিনজনকে গ্রেফতার

আপডেট: মে ২৬, ২০২২, ১১:১৪ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি:


নাটোর সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুমনা সরকার সহ তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। নাটোর আদালতের এক আইনজীবীর মামলায় তাকে গত বুধবার (২৫ মে) রাতে শহরের বড়গাছা পালপাড়া নিজবাড়ি থেকে চিকিৎসক সুমনা সরকার, তার বাবা সুনীতি রঞ্জন সরকার এবং মা করুণা রানী সরকারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরে বৃহস্পতিবার ( ২৬ মে) দুপুরে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে আইনজীবীর মামলায় ২৫ মে আসামীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে আদালতের হাজিরের নির্দেশ দেন নাটোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলজার রহমান।

গত বছরের ৫ অক্টোবর নাটোর জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অজিত কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে সুমনা সরকারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। হত্যার প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা এই মামলাটি দুই দফা তদন্ত হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত মামলার আসামি নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুমনা সরকার, তাঁর বোন একই হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা সাগরিকা সরকার, মা করুণা রানী সরকার, বাবা সুনীতি রঞ্জন সরকার এবং সহযোগী মাসুমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেনা। পরে গত ২৫মে মামলাটির শুনানি হলে বিচারক এজলাসে বসেই সদর থানার ওসিকে ফোন করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, মামলার বাদী আইনজীবী অজিত কুমার বিশ্বাস শহরের বড়গাছা পালপাড়া মহল্লায় নিজ বাড়িতে ৩০ বছর ধরে বসবাস করছেন। তাঁর বাড়ির পেছনে চিকিৎসক সুমনা সরকার ও সাগরিকা সরকার নিজ বাড়িতে বসবাস করেন। তাঁরা আইনজীবীর বাড়ির পূর্ব পাশের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা করতে চাইলে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

পরে ওই দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ৪০ জন দুর্বৃত্ত দিয়ে ওই আইনজীবীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাঁর বসতবাড়ির সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। গত বছর ১ অক্টোবর সন্ধ্যায় এই হামলা চালানো হলে ওই আইনজীবী পুলিশের ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে আত্মরক্ষা করেন। জেলা আইনজীবী সমিতি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়।