নাতিকে ছেলে দেখিয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি পদে নির্বাচন!

আপডেট: মে ৪, ২০১৭, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পারচৌপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তথ্য গোপন করে ও নাতিকে নিজের ছেলে বানিয়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎসাহী সদস্য আব্দুল খালেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদের প্রার্থী আহম্মদ আলী দাবি করেন, প্রধান শিক্ষক তাকে ভালোবেসে সভাপতি পদটি তাকে উপহার দিতে চেয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পারচৌপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে গত ২৯ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আহম্মদ আলী নামের এক ব্যক্তি তথ্য গোপন করে প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগসাজশ করে অভিভাবক সদস্য মনোনীত হোন। এরপর পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হোন। কিন্তু লোক দেখানো এ নির্বাচনে পুরো প্রক্রিয়াটা করা হয়েছে অত্যন্ত গোপনে।
সংসদ সদস্য কর্তৃক মনোনীত বিদ্যুৎসাহী সদস্য আব্দুল খালেক বলেন, নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়াটা করা হয়েছে গোপনে। আহম্মদ আলীর কোন সন্তান ওই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে না। এমনকি তিনি সংসদ সদস্য কর্তৃক মনোনীত বিদ্যুৎসাহী কিংবা দাতা সদস্যও নন। তবুও তিনি তথ্য গোপন করে ও নাতিকে নিজের ছেলে দেখিয়ে অভিভাবক সদস্য সেজে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন। এমনকি নির্বাচনে মোট ১১ জন ভোটারের মধ্যে ৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি ভোট না দেয়ায় ভোটারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮ জনে। এর মধ্যে আহম্মদ আলী পান ৪ ভোট আর তিনি (আব্দুল খালেক) পেয়েছেন ৪ ভোট। পরবর্তীতে লটারি করতে চাইলেও আহম্মদ আলী তা মানতে নারাজ। এ কারণে আহম্মদ আলীর অভিভাবক সদস্য পদ বাতিল করে ও তথ্য গোপন করায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য গত ৩০ এপ্রিল তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ ঘটনায় আরো একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই গ্রামের জুলফিকার আলী ভুট্টু নামের এক ব্যক্তি। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে খোরশেদ আলম ও ইয়াদত হোসেন নামের দুইজনকে আইন লঙ্ঘন করে ভোটার করা হয়েছে। তাদের ছেলেমেয়েরা ওই বিদ্যালয়ে পড়েন না।
সভাপতি প্রার্থী আহম্মদ আলীর সাথে কথা বলা হলে তিনি দাবি করেন, শিমুল নামে তার এক সন্তান ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। তবে ছেলের রোল নম্বর এবং বিদ্যালয়ে নির্বাচনের সময় তার ব্যবহৃত ভোটার নম্বর তিনি বলতে পারেননি। তিনি আরো দাবি করেন, সভাপতি পদে নির্বাচনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। প্রধান শিক্ষক দেলশাদ আলীই তাকে বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে ভালোবেসে সভাপতি পদে প্রার্থী হতে বলেছেন। এমনকি তাকে ওই পদটি উপহার দেয়ার কথাও বলেছেন প্রধান শিক্ষক।
পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আহম্মদ আলীর পুত্র শাহীন আলমের ছেলে শিমূল ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। নাতিকে (শিমূল) নিজের ছেলে দেখিয়ে আহম্মদ আলী প্রভাব খাটিয়ে সভাপতি হয়েছেন।
এ ব্যাপারে কথা বলতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলশাদ আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোফরান হালিম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইতোমধ্যে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি ঠিকঠাক করে নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে কোন প্রক্রিয়ায় ঠিকঠাক করা হবে তা তিনি পরিস্কার করে কিছু বলেননি।