নানা সমস্যায় জর্জরিত রাণীনগরের শতবর্ষী মন্দির

আপডেট: অক্টোবর ২, ২০২২, ১১:১৪ অপরাহ্ণ


নওগাঁ প্রতিনিধি:


নওগাঁর রাণীনগরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে প্রাচীনতম যুগ্নীতলা মন্দির ও শ্বশ্মান ঘাট এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। উপজেলার এই মন্দিরটি দীর্ঘ সময় সংস্কার কাজ করা হয় নি। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরাবস্থার কারণে পূজা-আর্চনা ও আত্মীয়-স্বজনদের মৃত দেহ দাহ করতে এসে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মন্দিরটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরে সীমান্ত ঘেষা একডালা ইউনিয়নের ঘাটাগন গ্রামের যুগ্নীতলা শ্বশ্মান মন্দিরটি নাগর নদীর পাড়ে অবস্থিত। ১৭ শতক জায়গার উপর মন্দির শ্মশান ঘাট অবস্থান হলেও ৯০ দশকের শেষ দিকে হঠাৎ করে জমির কাগজপত্র নিয়ে কিছু বিরোধ তৈরি হলে ধর্মীয় কর্মকান্ড স্বাভাবিক রাখতে একই গ্রামের অনিল চৌধুরী, শষ্ঠা, বরেন, গোপাল বেশকিছু জমি মন্দিরের নামে দান করেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি তেমন সহযোগীতা না পাওয়ায় দিনদিন মন্দিরটি তার সৌন্দর্য হারাতে বসেছে।

ঘাটাগন গ্রামের মোড় থেকে মন্দির পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার মেঠো পথ আর কাঁদা-পানির কারণে অনেক দর্শনার্থীরাই ধীরে ধীরে এখানে আসা থেকে দিনদিন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং বসার মত ভাল পরিবেশ না থাকায় এই মন্দিরের সুনাম থাকলেও দিনদিন তা পিছিয়ে পড়ছে। এলাকাবাসীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় উৎসবগুলো পরিচালিত হলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা থমকে যেতে বসেছে। জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মন্দির সংরক্ষণসহ স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন একান্ত প্রয়োজন।

ঘাটাগন গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিন্দ্রনাথ রায় জানান, শতবর্ষীয় এই যুগ্নীতলা মন্দির ও মহাশ্মশান দীর্ঘ দিন ধরে অবহেলিত। আমাদের ধর্মীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্যানিটেশন ও মন্দির সংরক্ষণের কাজ দীর্ঘ দিন ধরে করতে না পারায় আগত পূর্ণার্থীদের অনেক অসুবিধা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মন্দিরটির উন্নয়নে ব্যবস্থা করলে আমরা সনাতন ধর্মের লোকজনরা অনেক খুশি হবো।

একডালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান আলী জানান, ওই মন্দির ও শ্মশান ঘাটটি অনেক পুরাতন। অনেক দর্শনার্থী এখানে আসলেও অবকাঠামোর উন্নয়নে অনেক ঘাটতি আছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হুসেইন বলেন, উন্নয়নকল্পে আবেদন পেলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যাগুলো সমাধান করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

নওগাঁ-(আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি ওই মন্দির ও শশ্মানের সমস্যাগুলো আগে থেকেই জানি। আমি উপজেলা প্রশাসনকে এগুলোর উন্নয়ন করতে একাধিকবার বলেছি। আমার কাছে আবেদন দিলে আমি দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা প্রদান করবো। আমি আশাবাদি দ্রুতই এই সমস্যাগুলোর সমাধান হয়ে যাবে।