নান সমস্যায় জর্জরিত দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর সোনামসজিদ

আপডেট: অক্টোবর ৩০, ২০১৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ


সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর সোনামসজিদ দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত থাকলেও দেখার যেন কেউ নেই। জোড়াতালি দিয়ে চলছে বন্দরের কার্যক্রম। নেই কোন সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ, নেই পর্যাপ্ত আবাসিক এলাকা, নেই রাস্তা।
এমনকি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে যে ধরনের গোপনীয়তা থাকা দরকার অফিসকক্ষের অভাবে তাও অনেকটা গোপন থাকছে না। কর্মকর্তাদের নেই কোন নিরাপত্তা। নেই উপযুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা। আর যেটুকু আছে তাও খানাখন্দে ভরা। যেখান থেকে সরকার প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার রাজস্ব পাই, সেই বন্দর যেন উপজেলার সবচেয়ে বেশি অবহেলার স্থান।
সরজমিনে গিয়ে স্থল বন্দরের কাস্টমস অফিসের অতিরিক্ত কমিশনার মো. রুহুল আমিনের সঙ্গে আলাপ করে বন্দরের এক ভয়াবহ চিত্র পাওয়া যায়। তিনি জানান, কাস্টমস অফিসের যে হল ঘরটি আছে তাতে মোট ২০ জন লোক কাজ করতে পারবে। কিন্তু এখানে কাজ করেন প্রায় ১শ জন। ফলে ঠেসাঠেসি করে কাজ করতে হচ্ছে কর্মকর্তা কর্মচারীদের। কাস্টমস অফিসে একমাত্র সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকজনের প্রবেশের নিয়ম থাকলেও নিয়ম অমান্য করে যে কেউ যত্রতত্র যাতায়াত করতে পারে। ফলে রাজস্ব বিভাগের গোপনীয়তা নষ্ট হয় এবং অনেক সময় ফাইল গায়েব হয়ে যেতে পারে। এটা রোধ করতে হলে কাস্টমস অফিসের প্রতিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রবেশ করতে দেযা এবং বাইরের কেউ যেন প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যবস্থা করা জরুরি।
তিনি আরো জানান, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস অফিসে আসা-যাওয়ার একাধিক গোপন রাস্তা থাকায় যাত্রীর যত্রতত্র যাওয়া আসা করতে পারছে। এর ফলে কাগজপত্র ও ব্যাগ তল্লাশী করার জটিলতা দেখা দেয়। এমনকি মাঝে মাঝে অবৈধ পণ্য প্রবেশ করলেও সঠিক তদারকি হচ্ছে না। এটা রোধ করতে হলে একটি মাত্র সদর রাস্তার প্রয়োজন। কারপাস ও চেকপোস্ট দুইস্থানে হওয়ায় ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকগুলোর কাগজপত্র চেক করাতে গিয়ে চালকদের চরম হয়রানির শিকার হতে হয় এবং রাস্তার ওপর যানজটের সৃষ্টি হয়।
তিনি আরো জানান, স্থলবন্দরে অবস্থানরত কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপযুক্ত আবাসিক এলাকা না থাকায় দূর থেকে এসে অফিস করতে হয়। অন্তত এক একর জমির ওপর একটি বিল্ডিং নির্মিত হলে আবাসিক সঙ্কটের সমাধান হতে পারে। পোর্টের ভেতরের রাস্তাগুলি ভাঙ্গাচুরা হওয়ার ফলে গাড়ি থেকে পণ্য উঠানামার সময় ভীষণ অসুবিধা হয়। এমনকি গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থল বন্দরে কোনো পুলিশ ফাঁড়ি নেই। ফলে বন্দরের হাজার কর্মচারী কর্মকর্তা ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের কোন নিরাপত্তা থাকে না। কোনকিছু ঘটলে শিবগঞ্জ থানা থেকে পুলিশ ডাকতে হয়। কোন ফায়ার সার্ভিসের অফিস না থাকায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলে শিবগঞ্জ বা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের অফিসকে খবর দিয়ে ডাকতে হয়। ততক্ষণে অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। সঠিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নিয়মকানুন না থাকার ফলে ওয়ে ব্রিজে পণ্যবাহী ট্রাক ওজনের পর সেখান থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র দেয়ার নিয়ম থাকলেও আজও নজরে পড়ে নি।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত কমিশনার মো. রুহুল আমিন জানান, সমস্যগুলির সমাধানের জন্য ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি শীঘ্রই সমাধান হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ